শরিয়াহভিত্তিক একীভূত ব্যাংক কাঠামো থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্রভাবে কার্যক্রম চালাতে চায় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পর্ষদ। সোমবার জমা দেওয়া এই আবেদনে নতুন করে পুনর্গঠন, মূলধন জোরদার এবং পরিচালনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংক রেজল্যুশন সংক্রান্ত আইনের একটি বিশেষ ধারার সুযোগ নিয়ে তারা পৃথক হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। সাবেক পরিচালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের সম্মতি রয়েছে এবং আইনি কাঠামোর মধ্যেই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, আবেদনটি যথাযথ বিভাগে পাঠানো হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তা পর্যালোচনা করা হবে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত বা মন্তব্য দেওয়া সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে পাঁচটি দুর্বল শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে একটি সম্মিলিত ব্যাংক গঠন করা হয়। এর আগে এসব ব্যাংকের শেয়ারমূল্য শূন্য ঘোষণা করা হয়েছিল, কারণ সম্পদের তুলনায় দায় অনেক বেশি হয়ে পড়েছিল। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে তখন জানানো হয়।
পরবর্তীতে আইন সংশোধনের মাধ্যমে একটি ধারা যুক্ত করা হয়, যেখানে পূর্বের শেয়ারধারীদের পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ রাখা হয়েছে। এই সুযোগকেই ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে পৃথক হওয়ার আবেদন করেছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকটি।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আলাদা সত্তা হিসেবে পরিচালিত হলে ব্যাংকটি ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ কমিয়ে আনবে এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে জোর দেবে। পাশাপাশি নতুন মূলধন সংগ্রহ ও তারল্য পরিস্থিতি উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। তারা আশা করছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ খেলাপি ঋণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া স্থগিত থাকা সরকারি হিসাবগুলো পুনরায় চালু করে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে। ব্যাংকটির পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি তারল্য সহায়তার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে, যা পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে টেকসই করতে সহায়তা করবে বলে তারা মনে করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একীভূত ব্যাংক থেকে আলাদা হওয়ার এই উদ্যোগ দেশের ব্যাংক খাতে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। সফল হলে এটি পুনর্গঠনের একটি উদাহরণ হতে পারে, তবে ব্যর্থ হলে পুরো একীভূত প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য এ সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

