উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া ঋণ কমানোর পথে হাঁটছে সরকার। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরাসরি ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে আর্থিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, অল্প সময়ের ব্যবধানে সরকারি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, ৯ এপ্রিল ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছিল ১ লাখ ১২ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। সেখান থেকে মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে ২১ এপ্রিল তা কমে ৯৭ হাজার ২৮২ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ এই সময়ে প্রায় ১৫ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা সমন্বয় করা হয়েছে। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরাসরি নেওয়া ঋণ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭০৬ কোটি টাকায়।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় আগে থেকেই বাজার থেকে ঋণ নিয়ে সরকারি হিসাবে জমা রাখা হয়েছিল। এ উদ্দেশ্যে এপ্রিলের শুরুতে বিশেষ নিলামের মাধ্যমে অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়। তবে পরবর্তীতে ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করায় সেই চাপ কিছুটা কমে যায় এবং এখন ঋণ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ‘টাকা ছাপিয়ে অর্থ সংগ্রহ’—এমন আলোচনা সামনে এলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, নির্ধারিত সীমার মধ্যেই ঋণ নেওয়া হয়েছে। তবুও অর্থনীতিবিদদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া হলে তা বাজারে অর্থের জোগান বাড়ায়, যা মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
চলতি অর্থবছরের জন্য ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই সেই সীমা ছাড়িয়ে যায়। পরবর্তীতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এখন ঋণ সমন্বয়ের পথে এগোচ্ছে সরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চের শেষ দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ছিল অনেক বেশি, যা ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হয়েছে। বিশেষ করে ওভারড্রাফট ও উপায়-উপকরণ খাতের ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা সামগ্রিক আর্থিক চাপ কমাতে সহায়ক হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ কমানোর এই উদ্যোগ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা না আনলে ঋণ নির্ভরতা পুরোপুরি কমানো কঠিন হবে।

