দেশের শিল্প ও উৎপাদন খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে একক কোনো ঋণগ্রহীতা একটি ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ এক কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নিতে পারবে। পাশাপাশি সিন্ডিকেটেড অর্থায়নের ক্ষেত্রে এই সীমা আরও বাড়িয়ে সর্বোচ্চ দুই কোটি ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে উৎপাদনশীল খাতে অর্থপ্রবাহ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন নীতিমালায় দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সুবিধা বা লং টার্ম ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে ভিন্ন হারে তহবিল সুবিধা পাবে।
ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়ন সূচক অনুযায়ী অর্থায়নের শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ব্যাংকগুলো কম সুদে এবং দুর্বল রেটিংপ্রাপ্ত ব্যাংকগুলো কিছুটা বেশি সুদে তহবিল পাবে। এতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে।
আগের ব্যবস্থার তুলনায় নতুন কাঠামোতে সুদের হার নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো নিজেদের তহবিল ব্যয় এবং পরিচালন খরচ বিবেচনা করেই গ্রাহক পর্যায়ে সুদ নির্ধারণ করবে। তবে এই হার কোনোভাবেই নির্ধারিত সীমার বাইরে যেতে পারবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে শিল্প উদ্যোক্তারা তুলনামূলক কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে বড় আকারের উৎপাদন, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং অবকাঠামো খাতে নতুন বিনিয়োগে গতি আসতে পারে।
তবে একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর জন্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কারণ বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা ঋণ যথাযথ ব্যবস্থাপনা না হলে ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সার্বিকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে বিনিয়োগবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও এর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা, তদারকি ব্যবস্থা এবং শিল্প খাতের প্রকৃত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যের ওপর।

