দেশের ব্যাংক খাতে লভ্যাংশ বিতরণে এবারও কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতির কারণে অর্ধেকের বেশি ব্যাংক শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারেনি। এতে ব্যাংক খাতের দুর্বল আর্থিক অবস্থার চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশ বা তার বেশি, তাদের লভ্যাংশ বিতরণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই নীতির ফলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ১৬টি এবং মোট ৫২টি ব্যাংকের মধ্যে ১৮টি ব্যাংক ২০২৫ সালে লভ্যাংশ দিতে সক্ষম হয়েছে।
এছাড়া মূলধন ঘাটতি বা পর্যাপ্ত প্রভিশন না থাকলেও লভ্যাংশ দেওয়ার সুযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে একাধিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশের বেশি, যা পুরো খাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
লাভজনক অবস্থায় থাকা ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও লভ্যাংশের ওপর সীমা আরোপ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ অথবা নিট মুনাফার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। এর ফলে ব্যাংকগুলো ইচ্ছামতো লভ্যাংশ বিতরণ করতে পারছে না।
তবে তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকা কয়েকটি ব্যাংক সীমিত হারে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ দিয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে বড় সংখ্যক ব্যাংক—বিশেষ করে উচ্চ খেলাপি ঋণযুক্ত বেসরকারি ব্যাংক, একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো এবং অধিকাংশ সরকারি ব্যাংক—লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় পুঁজিবাজারেও প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কঠোর নীতি ব্যাংকগুলোর আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরাতে সহায়তা করছে। তবে একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলমান খেলাপি ঋণ সংকট সমাধান না হলে লভ্যাংশ পরিস্থিতি উন্নত হবে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যাংক খাতের টেকসই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে শুধু নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি নয়, বরং ঋণ আদায় জোরদার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা জরুরি।

