শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতে লভ্যাংশ না দেওয়ার প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ২০২৫ সালের সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য নতুন করে আরও চারটি ব্যাংক লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ব্যাংকগুলো হলো প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি এবং এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি।
গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পৃথক পরিচালনা পর্ষদের সভায় নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর প্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য থেকে বিষয়টি জানা গেছে।
প্রিমিয়ার ব্যাংকের আর্থিক চিত্র সবচেয়ে উদ্বেগজনক। ২০২৫ অর্থবছরে ব্যাংকটি শেয়ারপ্রতি ৮ টাকা ৫ পয়সা লোকসান করেছে, যেখানে আগের বছর তারা ১ টাকা ৯ পয়সা মুনাফা করেছিল। বছরের শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৫৯ পয়সা। ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা ৮ জুলাই সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে এবং রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ জুন।
অন্যদিকে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক শেয়ারপ্রতি ৭৪ পয়সা মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের ৬৬ পয়সার তুলনায় কিছুটা বেশি। তাদের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ১৬ পয়সা। ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে ২৯ জুলাই এবং রেকর্ড ডেট ৯ জুন।
রূপালী ব্যাংকের মুনাফা কমে এসেছে। ২০২৫ সালে তাদের শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১৪ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ২৩ পয়সা। শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ৩৩ টাকা ৮৫ পয়সা। তাদের সভা ২৯ জুন এবং রেকর্ড ডেট ২১ মে নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনআরবিসি ব্যাংকের ক্ষেত্রে শেয়ারপ্রতি মুনাফা কিছুটা বেড়েছে, ৮ পয়সা থেকে ১৬ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৫ পয়সা। তাদের বার্ষিক সাধারণ সভা ২৫ জুন অনুষ্ঠিত হবে এবং রেকর্ড ডেট ২১ মে।
এর আগে একই দিনে আরও ছয়টি ব্যাংক—এবি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও এনআরবি ব্যাংক—লভ্যাংশ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। ফলে এখন পর্যন্ত মোট ১০টি ব্যাংক এই পথে হাঁটল।
ব্যাংকগুলোর এই সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। সাধারণত লভ্যাংশ না দেওয়া মানে হলো প্রতিষ্ঠানটি তার মুনাফা ধরে রেখে ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা বা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, মুনাফার চাপ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এই প্রবণতার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সব মিলিয়ে, লভ্যাংশ না দেওয়ার ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত ব্যাংক খাতের বর্তমান বাস্তবতাকে তুলে ধরছে। এটি যেমন বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত, তেমনি ভবিষ্যতে খাতটির স্থিতিশীলতা ফিরে পাওয়ার চ্যালেঞ্জও স্পষ্ট করছে।

