বিদেশগামী কর্মীদের সহায়তা জোরদার করতে ঋণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ তফসিলি ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম চালু এবং রেমিট্যান্স সংগ্রহের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটির সক্ষমতা বাড়াতে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে কোর ব্যাংকিং সিস্টেম চালু, বাধ্যতামূলক নগদ সংরক্ষণ ও তারল্য অনুপাত বজায় রাখা এবং আন্তঃব্যাংক লেনদেন ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অনেক শাখায় সীমিত জনবল দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা সেবা সম্প্রসারণে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারের বৃহৎ কর্মসংস্থান পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও ব্যাংকটিকে আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে ঋণ সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে এবং একটি প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবগুলো যাচাই করতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
প্রস্তাবনায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি তিন ধাপে সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। স্বল্পমেয়াদে তহবিল সংকট নিরসন, জামানতবিহীন ঋণের ক্ষেত্রে নীতিগত ছাড় এবং দ্রুত জনবল নিয়োগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও রেমিট্যান্স সুবিধা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। মধ্যমেয়াদে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পূর্ণাঙ্গ তফসিলি ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে ব্যাংকটির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি প্রাক-অর্থায়ন তহবিল রয়েছে, যার আকার ২ হাজার কোটি টাকা। এর বড় অংশ ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এই তহবিল থেকে বিদেশগামী কর্মীদের ২ থেকে ৫ বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়া হয়। নতুন করে তহবিল বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি নতুন অর্থায়ন দিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। তাদের মতে, সরাসরি অর্থ জোগান দিলে তা অর্থনীতিতে অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহের চাপ তৈরি করতে পারে, যা বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে ঝুঁকিপূর্ণ। আন্তর্জাতিক ঋণ কর্মসূচির শর্তও এ ধরনের অর্থায়নের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি করছে। তবে সরকারের গ্যারান্টির ভিত্তিতে বিকল্প ব্যবস্থায় তহবিল দেওয়ার সম্ভাবনা খোলা রাখা হয়েছে।
ব্যাংকটির বর্তমান আর্থিক অবস্থায় কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। মোট ঋণের একটি অংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে এবং প্রভিশন ঘাটতিও রয়েছে। এছাড়া নিজস্ব আমানত সংগ্রহের সুযোগ না থাকায় এটি মূলত সরকারি তহবিলের ওপর নির্ভরশীল। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এখনও আন্তঃব্যাংক লেনদেন প্ল্যাটফর্মে পুরোপুরি যুক্ত হতে পারেনি।
বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানো ও রেমিট্যান্স প্রবাহ সহজ করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংকটির কার্যক্রম সম্প্রসারণকে অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে টেকসই উন্নয়নের জন্য আর্থিক শৃঙ্খলা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং নীতিগত সমন্বয় জরুরি বলে তারা মনে করছেন।

