দেশের ব্যাংকিং খাতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণের চাপ মোকাবিলায় নতুন কৌশল গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। আসন্ন জাতীয় বাজেটে খেলাপি ঋণসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ‘প্রি-স্যুট মধ্যস্থতা’ বা মামলা দায়েরের আগেই সমঝোতার একটি নতুন ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা আসতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঋণ আদায় প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, কার্যকর ও কম ব্যয়বহুল করতে আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় ঋণগ্রহীতা ও ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার আগে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর সুযোগ দেওয়া হবে।
বর্তমানে খেলাপি ঋণসংক্রান্ত মামলার বড় একটি অংশ বছরের পর বছর আদালতে ঝুলে থাকে। ফলে ব্যাংকের অর্থ আটকে যায়, ঋণ পুনরুদ্ধার বিলম্বিত হয় এবং বিচারব্যবস্থার ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে এসব বিরোধের একটি বড় অংশ আদালতের বাইরে নিষ্পত্তির সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা চালু হলে ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতার মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘ আইনি লড়াই, অতিরিক্ত ব্যয় এবং সময়ক্ষেপণ কমে আসবে। এতে ঋণ পুনরুদ্ধারের হার বাড়ার পাশাপাশি খেলাপি ঋণের সামগ্রিক চাপও হ্রাস পেতে পারে।
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অনেক দেশেই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা বা এডিআর সফলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও ব্যাংকিং খাতে এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে আদালতে মামলার জট কমবে এবং আর্থিক খাতে স্থবির হয়ে থাকা বিপুল অর্থ দ্রুত অর্থনীতির মূলধারায় ফিরে আসবে।
|
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আইনি ব্যবস্থা কঠোর করলেই খেলাপি ঋণ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। অনেক ক্ষেত্রে ঋণ পুনঃতফসিল, ব্যবসায়িক সংকট, অর্থনৈতিক মন্দা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে ঋণগ্রহীতারা সমস্যায় পড়েন। মধ্যস্থতার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করা গেলে ব্যাংক ও গ্রাহক—উভয় পক্ষই লাভবান হতে পারে।
তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই ব্যবস্থাকে সফল করতে হলে স্বচ্ছ নীতিমালা, নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। অন্যথায় এটি নতুন ধরনের দীর্ঘসূত্রতায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাজেট প্রস্তাবে এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন পদ্ধতি, আইনি কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, নতুন ব্যবস্থা চালু হলে ব্যাংকিং খাতের অন্যতম বড় সমস্যা খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে একটি কার্যকর পথ তৈরি হবে।

