নারীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে নয় বছরে বড় পরিসরে বিস্তৃত হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক-এর উইমেন ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ‘তারা’। বর্তমানে দেশের প্রায় পাঁচ লাখ নারী এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করছেন, যা ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক ইকোসিস্টেমে পরিণত হয়েছে।
ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের মে মাসে যাত্রা শুরু করা এই উদ্যোগটির লক্ষ্য ছিল নারীদের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক আর্থিক যাত্রায় সহায়তা দেওয়া। সময়ের সঙ্গে এটি শুধু একটি সেবা নয়, বরং নারীদের জন্য আলাদা ব্যাংকিং কাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতে নারীদের রিটেইল আমানতের প্রায় এক-চতুর্থাংশই এই প্ল্যাটফর্মের আওতায় রয়েছে।
‘তারা’ মূলত দুটি ভাগে পরিচালিত হচ্ছে—রিটেইল ও এসএমই। ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিভিন্ন পেশা ও বয়সের নারীদের জন্য বিশেষায়িত ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। কর্মজীবী নারী, গৃহিণী, শিক্ষার্থী ও প্রবীণ—সবাইকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে ভিন্নধর্মী পণ্য ও সেবা।
বর্তমানে রিটেইল গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লাখ, যাদের আমানতের পরিমাণ ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত গ্রাহক অন্তর্ভুক্তির ফলে এই খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি এসেছে। বিশেষ করে ই-কেওয়াইসি পদ্ধতিতে অধিকাংশ গ্রাহক যুক্ত হওয়ায় সেবা গ্রহণ আরও সহজ হয়েছে।
গত নয় বছরে গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৮০ গুণ এবং আমানত ৬০ গুণের বেশি বেড়েছে। গৃহিণীদের জন্য বিশেষ অ্যাকাউন্ট চালুর মাধ্যমে আয়ের প্রমাণ সংক্রান্ত জটিলতা দূর করা হয়েছে, যা নারীদের ব্যাংকিংয়ে অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
অন্যদিকে ‘তারা এসএমই’ সেগমেন্টে এক লাখের বেশি নারী উদ্যোক্তা যুক্ত হয়েছেন। এই খাতে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা এবং আমানত ২ হাজার ৮০০ কোটিরও বেশি। শুধু গত এক বছরেই এই সেগমেন্টে আমানতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার খুবই কম, যা ব্যাংকিং খাতে তাদের ইতিবাচক অবস্থান তুলে ধরে। বিশ্লেষকদের মতে, নারীদের আর্থিক সক্ষমতা ও দায়বদ্ধতার এই প্রবণতা ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারে। সব মিলিয়ে, ‘তারা’ এখন শুধু একটি ব্যাংকিং সেবা নয়, বরং নারীদের আর্থিক ক্ষমতায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

