রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ে এবার নিলামে তোলা হচ্ছে একটি পরিচিত শিল্পগোষ্ঠীর সম্পদ। প্রায় ২১৫ কোটি টাকার বকেয়া ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে জনতা ব্যাংক এই নিলাম প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিলামে থাকা সম্পদের মধ্যে রাজধানীর ১৫ তলা ‘জনকণ্ঠ ভবন’ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আগ্রহী দরদাতাদের ২৮ মে দুপুর ২টার মধ্যে আদালতে আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আবেদনের সঙ্গে নির্ধারিত সংরক্ষিত মূল্যের (রিজার্ভ প্রাইস) ১০ শতাংশ পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট আকারে জমা দিতে হবে। নিলামের দিন আদালতের বিধি অনুযায়ী দর আহ্বান করা হবে এবং তখনই সম্পদের সংরক্ষিত মূল্য ঘোষণা করা হবে। তবে বিক্রির পর কোনো ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হলে তার দায়ভার ব্যাংক বা আদালত নেবে না বলেও জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, কয়েক বছর আগে এই শিল্পগোষ্ঠীকে বড় অঙ্কের কার্যকরী মূলধন ঋণ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় তা খেলাপিতে পরিণত হয়। সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যাংকের কাছে বন্ধক রাখা থাকায় এখন সেগুলো নিলামে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিল্পগোষ্ঠীটির অধীনে থাকা বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। এমনকি তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি দৈনিক পত্রিকাও সম্প্রতি মুদ্রণ ও অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকট, বিপুল দেনা এবং কর পরিশোধে অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ আদায়ে নিলাম একটি প্রচলিত পদ্ধতি হলেও সব ক্ষেত্রে তা সফল হয় না। বিশেষ করে বড় সম্পদের ক্ষেত্রে ক্রেতা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জনতা ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বড় কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ায় ব্যাংকটির ওপর চাপ বেড়েছে। মোট ঋণের বড় অংশই ঝুঁকিপূর্ণ বা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিলামের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পদ্ধতিতেও বকেয়া ঋণ আদায়ের চেষ্টা চলছে। গত বছরও কিছু অর্থ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। বিশ্লেষকদের মতে, বড় ঋণ খেলাপি সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কেবল নিলাম যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন কঠোর তদারকি, স্বচ্ছ ঋণ বিতরণ এবং সময়মতো ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

