বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসির মুনাফায় বড় ধাক্কা এসেছে ২০২৫ সালে। বাড়তি প্রভিশন সংরক্ষণ এবং সরকারি ট্রেজারি বন্ড থেকে আয় কমে যাওয়ায় ব্যাংকটির নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমেছে।
ব্যাংকটির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৮২৩ কোটি টাকায়। আগের বছর এই মুনাফা ছিল ১ হাজার ৮৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা কমেছে প্রায় ২৩ শতাংশ।
ব্যাংকসংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, মুনাফা কমার প্রধান কারণ ছিল ঋণের বিপরীতে অতিরিক্ত প্রভিশন রাখা। ২০২৫ সালে সম্ভাব্য খেলাপি ঋণের ঝুঁকি মোকাবিলায় এইচএসবিসি প্রায় ২৬৬ কোটি টাকা প্রভিশন সংরক্ষণ করেছে। আগের বছরের তুলনায় যা প্রায় দেড় গুণ বেশি।
একই সময়ে সরকারি ট্রেজারি বন্ড থেকে ব্যাংকটির আয়ও কমে গেছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত এই খাত থেকে আয় প্রায় ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা সামগ্রিক মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
আর্থিক প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ব্যাংকটির শ্রেণিকৃত ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বছরের শেষে খেলাপি বা শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৪৮ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩৪ শতাংশ বেশি। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট ঋণের প্রায় ৪ শতাংশ শ্রেণিকৃত অবস্থায় রয়েছে।
ব্যাংক খাত বিশ্লেষকেরা বলছেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপ, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা এবং ঋণমানের অবনতির প্রভাব বহুজাতিক ব্যাংকগুলোর ওপরও পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে বড় করপোরেট গ্রাহকদের ঋণঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো এখন বেশি সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।
তাঁদের মতে, প্রভিশন বাড়ানো স্বল্পমেয়াদে মুনাফা কমিয়ে দিলেও এটি ব্যাংকের আর্থিক সুরক্ষা জোরদারে ইতিবাচক পদক্ষেপ। কারণ সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে আগে থেকেই সংরক্ষণ রাখলে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলা সহজ হয়।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় প্রায় সব ব্যাংকই বাড়তি প্রভিশনের চাপে রয়েছে। অনেক ব্যাংক মুনাফা করলেও বড় অংশের আয় প্রভিশন বাবদ সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। ফলে প্রকৃত মুনাফা ও নগদ প্রবাহে চাপ তৈরি হচ্ছে।

