পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন শক্তিশালী করতে ১ হাজার কোটি টাকার গ্রিন সাসটেইনেবল সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংক এশিয়া পিএলসি। মূলধন ভিত্তি আরও মজবুত করার পাশাপাশি টেকসই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ আগের দিন অনুষ্ঠিত ৫৮৪তম সভায় এই বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন দেয়। প্রস্তাবিত বন্ডটি নন-কনভার্টিবল, আনসিকিউরড এবং সম্পূর্ণ রিডিমেবল হবে। এতে ফ্লোটিং রেট কুপন সুবিধা থাকবে এবং এর মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ বছর। বন্ডটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বাজারে ছাড়া হবে।
ব্যাংক এশিয়া জানিয়েছে, এই বন্ড থেকে সংগৃহীত অর্থ মূলত ব্যাংকের টিয়ার–২ মূলধন শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব প্রকল্প ও টেকসই অর্থনৈতিক খাতে অর্থায়নেও এই তহবিল কাজে লাগানো হবে। বাসেল–৩ কাঠামোর আওতায় নিয়ন্ত্রক মূলধনের সক্ষমতা বাড়ানোও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে মূলধন ঘাটতি মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি তহবিল সংগ্রহে বন্ড ইস্যুর প্রবণতা বাড়ছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী গ্রিন ফাইন্যান্সিংয়ের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তাঁদের মতে, গ্রিন বন্ড শুধু ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করবে না, বরং পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়নের সুযোগও বাড়াবে, যা টেকসই অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই বন্ড ইস্যু কার্যকর হতে হলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিতে হবে।
২০০৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক এশিয়ার বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ২৮২ কোটি টাকার বেশি। উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৫০ দশমিক ৭০ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

