পরিবহন সেবার বিপরীতে দেশের বাইরে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়ায় নতুন সমন্বিত সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) জারি করা এ নির্দেশনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন, বিদেশি এয়ারলাইন্স এবং শিপিং কোম্পানির কার্গো সেবার টিকিট ইস্যু ও চার্জ সংগ্রহে একটি অভিন্ন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান বিভিন্ন নির্দেশনার মধ্যে থাকা অস্পষ্টতা দূর করা এবং প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমানোর লক্ষ্যেই এই একীভূত নিয়ম চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে কমপ্লায়েন্স বা বিধি অনুসরণ আরও শক্তিশালী করার কথাও বলা হয়েছে।
নতুন সার্কুলার অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও বহিঃগামী রেমিট্যান্স সংক্রান্ত সব কার্যক্রম বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭ এবং সংশ্লিষ্ট পূর্ববর্তী নির্দেশনার আওতায় পরিচালিত হবে। তবে আগের পরিবহন খাত সম্পর্কিত সব নির্দেশনা একত্র করে একটি সমন্বিত দলিল তৈরি করা হয়েছে। প্রয়োজনে কিছু ক্ষেত্রে সংশোধনও আনা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই সার্কুলারটি আইনটির ধারা ২০(৩) অনুযায়ী জারি করা হয়েছে এবং এটি জারির তারিখ থেকে এক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো নির্দেশনা এলে তা এই কাঠামোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হবে।
সমন্বিত নির্দেশনায় পরিবহন খাতের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের বিস্তৃত ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন ও কার্গো সেবার টিকিট ইস্যু এবং ফ্রেইট সংগ্রহ, বিদেশি এয়ারলাইন ও শিপিং কোম্পানির বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের লেনদেন।
এছাড়া বেসরকারি শিপিং কোম্পানি, এয়ারলাইন, কুরিয়ার সার্ভিস এবং ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারদের জন্যও আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিপিং কোম্পানি, এয়ারলাইন ও ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং এজেন্সির বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার নিয়মও এতে নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে নিয়োজিত বাংলাদেশি পরিবহন কোম্পানির নামে খোলা বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবও এই কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।
সার্কুলারে ট্যুর অপারেটরদের জন্যও হালনাগাদ নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান সেবা খাতে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, এই সমন্বিত কাঠামোর ফলে পরিবহন ও লজিস্টিক খাতে বহির্গামী রেমিট্যান্স প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা অনুসরণ নিশ্চিত করা যাবে।

