বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সই করা নতুন নোট বাজারে ছাড়তে শুরু করেছে। প্রথম ধাপে ১০০০, ৫০০ ও ১০ টাকার নোট ইস্যু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মূল্যমানের নোটও বাজারে আনা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয় থেকে নতুন নোট ছাড়ার কার্যক্রম শুরু হয়। নতুন নোটগুলোতে ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নকশা রাখা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের পর নতুন এই নকশা প্রণয়ন করা হয়। এর আগে প্রচলিত নোটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ব্যবহৃত হতো।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন গভর্নরের সই থাকা ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নোটও ধাপে ধাপে বাজারে ছাড়া হবে। তবে নোটের রং, আকার, নকশা ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বর্তমানে প্রচলিত সব নোট ও ধাতব মুদ্রাও আগের মতো চালু থাকবে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নতুন নোটের ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষকে ছেঁড়া ও মলিন নোট ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষও বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একযোগে নতুন নকশার নোট বাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়ায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়। সাধারণত একটি নতুন নোটের নকশা চূড়ান্ত করা থেকে বাজারে পৌঁছাতে ১২ থেকে ১৮ মাস সময় লাগে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী নতুন নোট সরবরাহ সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদের আগে ব্যাংকগুলোতে টাকার উত্তোলন বাড়ে। সেই চাহিদা সামাল দিতে রোববার থেকেই ব্যাংকগুলোকে বেশি পরিমাণে ফ্রেশ নোট সরবরাহ করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ টাকা উত্তোলন করেছে, তার বেশিরভাগই নতুন নোট।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বাজারে ছেঁড়া–ফাটা নোটের ব্যবহার কমিয়ে মানুষের হাতে নতুন নোট পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

