ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাউথইস্ট ব্যাংক। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ বিদ্যমান অনুমোদিত মূলধনের সঙ্গে আরও ৫০০ কোটি টাকা যোগ করে তা ২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি নিতে আগামী ২৩ জুলাই বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজন করবে ব্যাংকটি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিতব্য এ সভা সকাল ১১টায় শুরু হবে। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২১ জুন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মূলধন সক্ষমতা জোরদার এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মূলধন নীতির প্রেক্ষাপটে অনেক ব্যাংকই এখন মূলধনভিত্তি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটির মুনাফায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়ে শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় দাঁড়িয়েছে ৯৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪০ পয়সা। একই সঙ্গে মার্চ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়ে হয়েছে ২৬ টাকা ৪৯ পয়সা।
২০২৫ হিসাব বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। এর মধ্যে ৩ শতাংশ নগদ এবং ৭ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ রয়েছে। ওই বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় বেড়ে ২ টাকা ৫১ পয়সায় দাঁড়ায়, যা আগের বছরে ছিল মাত্র ৩২ পয়সা। একই সময়ে নিট সম্পদমূল্যও বেড়ে হয়েছে ২৫ টাকা ৭৪ পয়সা।
এর আগে ২০২৪ সালে কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ব্যাংকটি। সে সময় ব্যাংকটির মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। তবে ২০২৩ ও ২০২২ সালে ধারাবাহিকভাবে ১০ শতাংশ করে লভ্যাংশ দিয়েছিল ব্যাংকটি, যার মধ্যে নগদ ও স্টক—দুই ধরনের লভ্যাংশই ছিল।
ব্যাংকটির সর্বশেষ ঋণমান মূল্যায়নে দীর্ঘমেয়াদে ‘ডাবল এ’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-২’ রেটিং দেওয়া হয়েছে। নিরীক্ষিত ও অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, সম্পদের গুণগত মান, মূলধন পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে এ রেটিং নির্ধারণ করেছে একটি স্বীকৃত রেটিং সংস্থা।
২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ব্যাংকটির বর্তমান অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ১ হাজার ৩৩৭ কোটির বেশি এবং রিজার্ভে জমা আছে ১ হাজার ৮১৬ কোটিরও বেশি টাকা। উদ্যোক্তা পরিচালক, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও অংশীদারত্ব রয়েছে ব্যাংকটিতে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর মাধ্যমে ভবিষ্যতে নতুন শেয়ার ইস্যু, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং মূলধন ঘাটতি মোকাবিলায় বাড়তি সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে এটি ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদারেও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

