বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অর্থনীতিকে গতি দিতে বড় নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এখন থেকে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকছে না। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকার বলছে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ কাটিয়ে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা তৈরির পাশাপাশি পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো প্রণয়নের কাজ চলছে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অন্যতম বড় উদ্বেগ ছিল মুনাফা ও বিনিয়োগ সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার জটিলতা। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সেই প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ হবে, যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বিনিয়োগ সহজীকরণের পাশাপাশি শিল্প ও কর্মসংস্থান বাড়াতে একাধিক অর্থনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্ধ শিল্পকারখানা চালু এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম চাঙা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়াতে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে কর প্রশাসনেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ডিজিটাল ও ফেসলেস কর ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং করদাতাদের হয়রানি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়ের আওতা সম্প্রসারণেও কাজ চলছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমেও বরাদ্দ বাড়ানো হবে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক সহায়তা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের সম্মানীর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতেও নতুন কৌশল হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশের সঙ্গে সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তা জোরদারের উদ্যোগ চলছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিনিয়োগ সহজীকরণে নেওয়া এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন সঠিকভাবে হলে বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়তে পারে। তবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে নীতির ধারাবাহিকতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হবে।

