বাংলাদেশে ডিজিটাল পেমেন্ট খাতের দ্রুত বিকাশের সময়ে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাস্টারকার্ড তাদের স্থানীয় নেতৃত্বে পরিবর্তন এনেছে। প্রতিষ্ঠানটির নতুন কান্ট্রি ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাকিয়া সুলতানা। এর আগে তিনি বাংলাদেশে মাস্টারকার্ডের পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নতুন দায়িত্বে তিনি দীর্ঘদিনের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।
মাস্টারকার্ডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে অবসরে যাচ্ছেন সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল। প্রায় ১৩ বছর ধরে মাস্টারকার্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই কর্মকর্তা বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশের পেমেন্ট অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা ২০১৫ সালে মাস্টারকার্ডে যোগ দেন। গত এক দশকের বেশি সময়ে তিনি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন দায়িত্বে বাংলাদেশের বাজারে মাস্টারকার্ডের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারের পরিধি বৃদ্ধি এবং গ্রাহক ও অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেবেন তিনি। পাশাপাশি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং নিরাপদ ও সহজ লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তোলাও তাঁর অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, কার্ডভিত্তিক লেনদেন এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের দ্রুত বিস্তারের ফলে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সেবাদাতাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। নগদবিহীন লেনদেনের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগও এই খাতকে এগিয়ে নিচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে নেতৃত্বের পরিবর্তনকে মাস্টারকার্ডের ভবিষ্যৎ কৌশল বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাস্টারকার্ডের সাউথ এশিয়া বিভাগের প্রেসিডেন্ট গৌতম আগারওয়াল বলেছেন, বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের অবদান উল্লেখযোগ্য। একই সঙ্গে স্থানীয় নেতৃত্বকে আরও ক্ষমতায়নের কৌশলের অংশ হিসেবেই জাকিয়া সুলতানাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় জাকিয়া সুলতানা বলেন, দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নতুন দায়িত্ব পাওয়া তাঁর জন্য গর্বের বিষয়। তিনি গ্রাহক, অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে আরও নিরাপদ, উদ্ভাবনী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে, আধুনিক আর্থিক প্রযুক্তির বিস্তার ব্যক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
পেশাগত জীবনে জাকিয়া সুলতানার রয়েছে টেলিযোগাযোগ, আর্থিক সেবা এবং বৃহৎ পরিসরের রূপান্তরমূলক প্রকল্প পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি গ্রামীণফোনে প্রকল্প ও পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা বিভাগে কাজ করেন। পরে প্রায় এক দশক এয়ারটেলে অপারেশনাল এক্সেলেন্স বিভাগের নেতৃত্বে ছিলেন। এছাড়া বাংলালিংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি এয়ারটেল ও বাংলালিংকের বিভিন্ন কৌশলগত এবং বোর্ড-সংশ্লিষ্ট দায়িত্বেও যুক্ত ছিলেন। ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তিনি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা পরিচালনা এবং বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের ডিজিটাল পেমেন্ট খাতে মাস্টারকার্ডের পরবর্তী প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং নতুন উদ্ভাবনী সেবার প্রসারে তাঁর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

