প্রায় এক দশক ধরে চলা তদন্তের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের আলোচিত রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বড় অগ্রগতি এসেছে। মামলার খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) চূড়ান্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এতে দেশি–বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি রয়েছেন ১০ জন।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। সুইফট পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে ভুয়া বার্তার মাধ্যমে অজ্ঞাত হ্যাকাররা এই অর্থ সরিয়ে নেয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার ৩৯ দিন পর মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। শুরু থেকেই মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। চলতি বছরের ১ এপ্রিল খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করে আইনগত মতামতের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ৬৪ আসামির মধ্যে ফিলিপাইনের ৩৬ জন, শ্রীলঙ্কার ৮ জন, ভারতের ৪ জন, চীনের ৩ জন, উত্তর কোরিয়ার ২ জন, জাপানের ১ জন এবং বাংলাদেশের ১০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, তদন্তের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আইনি পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারের বিভিন্ন উদ্যোগও চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশি অভিযুক্তদের মধ্যে তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমানের নাম রয়েছে। তদন্ত সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার সময় দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, তথ্য গোপন এবং প্রমাণ নষ্টের চেষ্টার বিষয়গুলো তদন্তে উঠে এসেছে।
এছাড়া তৎকালীন বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নামও তালিকায় রয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক মহাব্যবস্থাপক ও উপমহাব্যবস্থাপকসহ একাধিক কর্মকর্তা আছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, চার্জশিটে নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও এটি এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির এই মামলার অগ্রগতি ব্যাংকিং খাতের জবাবদিহি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

