দেশব্যাপী ডিজিটাল লেনদেনকে আরও জনপ্রিয় ও নিরাপদ করতে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে আয়োজিত রিলস তৈরির প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত ১০ জন বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নগদবিহীন লেনদেন সম্প্রসারণে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সোমবার (২০ জুলাই) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নররা, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান, নির্বাহী পরিচালক এবং বিভিন্ন বিভাগের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলা কিউআর সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এর ব্যবহার আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই এই রিলস তৈরির প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সৃজনশীল উপায়ে ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে সারা দেশে বাংলা কিউআর ব্যবহারের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার গ্রাহকরা একই কিউআর কোড ব্যবহার করে সহজে লেনদেন করতে পারবেন, যা নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজনীয়তা কমাবে এবং আর্থিক লেনদেনকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করবে।
তিনি বলেন, বাংলা কিউআর চালুর ফলে নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি জাল নোট কিংবা ছেঁড়া-ফাটা নোট ব্যবহারের কারণে যে ভোগান্তি তৈরি হয়, সেটিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। এতে ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং সেবাগ্রহীতা—সব পক্ষই উপকৃত হবে।
গভর্নরের ভাষ্য, বিশ্বজুড়ে আর্থিক খাতে দ্রুতগতিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। বাংলাদেশও সেই ধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক ও সমন্বিত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। বাংলা কিউআর সেই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন ব্যবস্থা চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, দেশের সব ব্যাংক এবং মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য বাংলা কিউআর ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে। এর ফলে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা কিউআর কোড ব্যবহারের পরিবর্তে একটি সমন্বিত কিউআর ব্যবস্থার মাধ্যমে সহজে লেনদেন করা সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, একীভূত কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু হলে ডিজিটাল লেনদেনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য অর্থ গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং নগদ টাকার ওপর নির্ভরশীলতা ধীরে ধীরে কমবে। একই সঙ্গে এটি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণ এবং স্মার্ট আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়াতে ভবিষ্যতেও জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে, যাতে দেশের আরও বেশি মানুষ নিরাপদ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।

