সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠন কার্যক্রমে অগ্রগতি হওয়ায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে ধাপে ধাপে প্রশাসক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রশাসকদের কাছ থেকে ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, পুনর্গঠন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আমানতকারীরা তাদের জমা অর্থ প্রতিশ্রুত মুনাফাসহ ফেরত পাবেন বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমকে স্থিতিশীল পর্যায়ে নিতে প্রশাসকদের দায়িত্ব ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হবে। পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংক পরিচালনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে একই দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আওতাভুক্ত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকরা বিক্ষোভ করেন। তারা আমানতের অর্থ ফেরত, প্রতিশ্রুত মুনাফা প্রদান, পাশাপাশি হেয়ারকাট নীতি বাতিল ও এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।
আর্থিক সংকট, তারল্য ঘাটতি, অনিয়ম এবং সুশাসনের দুর্বলতার কারণে গত বছর পাঁচটি ইসলামী ধারার ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। একীভূত করার প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো— এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক।
পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকির জন্য প্রতিটি ব্যাংকে একজন করে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ৮ জুন কাজী শায়রুল হাসানকে চেয়ারম্যান এবং আবেদুর রহমান সিকদারকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকের পরিচালনা কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে পরিচালনা পর্ষদে অভিজ্ঞ সদস্য যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুনর্গঠন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে এবং আমানতকারীদের আস্থা ফিরবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এরই মধ্যে সরকার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ১০ হাজার কোটি টাকার সুকুক বন্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, এই বিনিয়োগ ও পুনর্গঠন কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে।
বর্তমানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন রয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা।

