ব্যাংকগুলোর তারল্য পরিস্থিতি পরিমাপের গুরুত্বপূর্ণ সূচক নেট স্টেবল ফান্ডিং রেশিও (এনএসএফআর) প্রতিবেদন তৈরির কাঠামোয় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশোধিত ওপেন মার্কেট অপারেশনস (ওএমও) নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এনএসএফআর রিপোর্টিং টেমপ্লেট ও গাইডলাইনে নতুন নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া বিভিন্ন তারল্য সহায়তা এখন আর সম্পদ বিক্রি হিসেবে দেখানো যাবে না। এসব সুবিধাকে জামানতভিত্তিক ঋণ হিসেবে বিবেচনা করে এনএসএফআর প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডাটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস বিভাগ (এসডিএডি) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার লেটার জারি করেছে। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো ওই নির্দেশনায় নতুন রিপোর্টিং কাঠামোর বিষয়টি জানানো হয়।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডভিত্তিক বেসেল-৩ কাঠামোর আওতায় তারল্য কভারেজ রেশিও (এলসিআর) এবং নেট স্টেবল ফান্ডিং রেশিও (এনএসএফআর) বজায় রাখতে হয়। ২০১৫ সালে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হলেও সম্প্রতি ওপেন মার্কেট অপারেশনস পরিচালনার নিয়মে পরিবর্তন আসায় এনএসএফআর প্রতিবেদন তৈরির কাঠামোও সংশোধনের প্রয়োজন হয়েছে।
নতুন নিয়মে বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো সুবিধা, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ), ইসলামিক ব্যাংকস লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি (আইবিএলএফ), অ্যাসিউরড রেপোসহ অন্যান্য তারল্য সহায়তাকে জামানতের বিপরীতে নেওয়া ঋণ হিসেবে দেখাতে হবে।
এ ছাড়া প্রতিবেদনে ‘জামানতভিত্তিক ঋণ বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থায়ন’ নামে নতুন একটি শ্রেণি যুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন ও তারল্য সহায়তা সুবিধার তথ্য আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, আন্তঃব্যাংক রেপোর হিসাব পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া ইন্টারব্যাংক রেপোকে দায় হিসেবে দেখাতে হবে।
একই সঙ্গে সরকারি ও বাংলাদেশ ব্যাংক ইস্যুকৃত বাজারজাতযোগ্য সিকিউরিটিজের প্রতিবেদন তৈরিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব সিকিউরিটিজকে জামানতমুক্ত এবং জামানতযুক্ত—এই দুই ভাগে আলাদাভাবে দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দেওয়া ঋণ ও আমানতের তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কয়েকটি রিপোর্টিং শিরোনাম সংশোধন করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর তারল্য অবস্থার তথ্য আরও নির্দিষ্ট কাঠামোর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সংশোধিত এনএসএফআর রিপোর্টিং টেমপ্লেট ব্যবহার করে ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত সময়কাল থেকে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। নতুন নির্দেশনা ৩০ জুন থেকেই কার্যকর ধরা হবে। তবে ২০১৫ সালের মূল এনএসএফআর নির্দেশিকার অন্যান্য বিধান অপরিবর্তিত থাকবে।
ব্যাংকিং খাতে তারল্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে রিপোর্টিং পদ্ধতির সামঞ্জস্য রাখার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

