রাজধানীর তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোডে নির্মাণাধীন ২৬ তলা বাণিজ্যিক ভবন ‘সুইস টাওয়ার’ অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূবালী ব্যাংক পিএলসি। প্রায় ৮০০ কোটি টাকার এই সম্ভাব্য লেনদেন সম্পন্ন হলে এটি হবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে অন্যতম বড় স্থাবর সম্পদ বিনিয়োগ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অনুমোদন পাওয়ার পরই চূড়ান্ত হবে এই ক্রয়প্রক্রিয়া।
বুধবার (২২ জুলাই) ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (প্রাইস সেনসিটিভ ইনফরমেশন- পিএসআই) প্রকাশের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে জানানো হয়েছে, রাজধানীর ২০৮, তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোডে অবস্থিত নির্মাণাধীন ভবনটি কেনার বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদ নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী, ভবনটি অধিগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে লেনদেন সম্পন্ন হবে। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় আইনগত ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ভবনটির মালিকানা পূবালী ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ‘সুইস টাওয়ার’ নির্মাণ করছে বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট। মূল পরিকল্পনা ছিল, এই ভবনে আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা হোটেল ‘সুইসোটেল ঢাকা’ পরিচালনা করা হবে। সে লক্ষ্যেই ভবনটির নকশা ও নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
তবে পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে হোটেল পরিচালনার পরিবর্তে পুরো ভবনটি পূবালী ব্যাংকের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে ভবনটির ভবিষ্যৎ ব্যবহারেও পরিবর্তন আসতে পারে। যদিও ভবনটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, করপোরেট অফিস নাকি অন্য কোনো বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হবে— সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বড় ব্যাংকগুলো নিজস্ব স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় আরও কৌশলগত অবস্থান নিচ্ছে। আধুনিক করপোরেট ভবন অধিগ্রহণের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিচালন কার্যক্রম একটি স্থানে কেন্দ্রীভূত করা সম্ভব হয়, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে ভাড়া ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়।
তাদের মতে, রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত একটি আধুনিক বহুতল ভবনের মালিকানা ভবিষ্যতে ব্যাংকের সম্পদমূল্যও বাড়াতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজনের অতিরিক্ত জায়গা থাকলে তা ভাড়া দিয়ে অতিরিক্ত আয় করার সুযোগও তৈরি হতে পারে, যা ব্যাংকের অ-সুদভিত্তিক আয়ের উৎস সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, দেশের ব্যাংকিং খাতে এখন পরিচালন দক্ষতা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়টি ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে বড় আকারের করপোরেট ভবন অধিগ্রহণকে শুধু একটি সম্পদ কেনা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
তবে এই লেনদেন এখনো অনুমোদননির্ভর। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সম্মতি পাওয়ার পরই ৮০০ কোটি টাকার এই চুক্তি কার্যকর হবে এবং ভবনটির মালিকানা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

