রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার অর্থায়ন আরও স্বচ্ছ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) পরিচালনার নতুন অপারেশনাল গাইডলাইন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রপ্তানি মূল্য দেশে আনতে ব্যর্থ রপ্তানিকারী, যাদের ইডিএফ দায় অন্য ঋণের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে অথবা যেসব ব্যাংক সময়মতো ইডিএফ ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হবে, তারা নতুন করে এই সুবিধা পাবে না।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ (ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট) এ-সংক্রান্ত মাস্টার সার্কুলার জারি করে।
নতুন নির্দেশনায় ইডিএফ ঋণের সুদের হার, ঋণের মেয়াদ, যোগ্যতা, ঋণের সীমা এবং মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৬ মাস মেয়াদি এসওএফআর (SOFR) + ০.৫০ শতাংশ সুদে ডলারে ইডিএফ ঋণ পাবে। আর এসব ব্যাংক রপ্তানিকারকদের সর্বোচ্চ এসওএফআর + ১.৫০ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জন্য ঋণ দিতে পারবে।
এ ছাড়া, নিজস্ব উৎস থেকে আমদানি মূল্য পরিশোধের পর ইডিএফ পুনঃঅর্থায়ন পাওয়ার আগ পর্যন্ত সময়ের জন্য ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ১ শতাংশ সুদ আদায় করতে পারবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইডিএফ ঋণ পরিশোধ না করলে বকেয়া অর্থের ওপর প্রচলিত সুদের অতিরিক্ত ৪ শতাংশ হারে দণ্ডসুদ আরোপ করা হবে। ইসলামি ব্যাংকের ক্ষেত্রে একই হারে ক্ষতিপূরণ প্রযোজ্য হবে।
নতুন নীতিমালায় ইডিএফ ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১৮০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে আবেদন করলে বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর অনুমতি দিতে পারবে।
ইডিএফ সুবিধা ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি, ইনল্যান্ড ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে সময়মতো রপ্তানি আয় দেশে আনতে ব্যর্থ রপ্তানিকারী, অন্য ঋণের মাধ্যমে ইডিএফ দায় সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান এবং সময়মতো ইডিএফ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ ব্যাংকগুলো নতুন করে এই সুবিধা পাবে না।
নতুন নির্দেশনায় খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ ঋণসীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজিএমইএভুক্ত সদস্যরা সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার, বিকেএমইএ ও ফ্ল্যাক্সভুক্ত সদস্যরা ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার, বিবিপিএমইএ ও বিএফইএর সদস্যরা ১ কোটি ডলার, বিএফএফইএর সদস্যরা ৫০ লাখ ডলার এবং অন্যান্য রপ্তানিকারকরা সর্বোচ্চ ১ কোটি ডলার পর্যন্ত ইডিএফ সুবিধা নিতে পারবেন।
বাল্ক আমদানির ক্ষেত্রে বিটিএমএ সদস্যরা সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার, বাংলাদেশ ডাইড ইয়ার্ন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা ১ কোটি ডলার, বিপিএএমইএর সদস্যরা ২০ লাখ ডলার এবং বিপিজিএমইএ ও বিসিএমইএর সদস্যরা ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত সুবিধা পাবেন।
ঋণের মেয়াদ বাড়াতে হলে নির্ধারিত পরিশোধ তারিখের অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকতে হবে। পাশাপাশি বিল অব এন্ট্রি এবং সময় বাড়ানোর যৌক্তিক কারণের সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথিও জমা দিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, নতুন অপারেশনাল গাইডলাইনের মাধ্যমে ইডিএফ তহবিলের ব্যবহার আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর হবে এবং রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রার অর্থায়নে শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে।

