দেশের ব্যাংকগুলো কৃষি ও পল্লি খাতে ঋণ বিতরণে নতুন রেকর্ড গড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছে ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো ৩ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা বেশি ঋণ বিতরণ করেছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষি খাতে এ ধরনের অর্থায়ন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা আগের অর্থবছরের তুলনায় বাড়ানো হয়েছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা পরবর্তী অর্থবছরে বেড়ে ৩৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা, গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষি খাতের অবদান ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। আর মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪৬ শতাংশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি কৃষিঋণ বিতরণ ইতিবাচক অগ্রগতি। এতে বোঝা যায়, কৃষকের ঋণের চাহিদা যেমন ছিল, তেমনি ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের আগ্রহও বেড়েছে। সময়মতো অর্থায়ন পেলে কৃষি উৎপাদন আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, দেশের চাহিদা মেটাতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য আমদানি করতে হয়। দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে, সাশ্রয় হবে বৈদেশিক মুদ্রা এবং খাদ্যনিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর মোট নিট ঋণের কমপক্ষে ২ দশমিক ৫ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি পশুপালন খাতে ঋণের বরাদ্দ ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। সেচ ও কৃষিযন্ত্র খাতেও পৃথক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের ক্ষেত্রে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) সার্ভিস চার্জ মওকুফ করায় ক্ষুদ্র কৃষকদের ঋণ গ্রহণ আরও সহজ হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃষকের হাতে সময়মতো ঋণ পৌঁছালে শুধু উৎপাদনই বাড়ে না, বরং বীজ, সার, কৃষিযন্ত্র, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিপণন খাতেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পায়। এর ফলে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়ে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষকের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণ আরও সহজ ও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য এজেন্ট ব্যাংকিং, সাব-ব্রাঞ্চ, চুক্তিভিত্তিক কৃষি, এলাকাভিত্তিক উদ্যোগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে আরও বেশি কৃষিঋণ বিতরণে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

