চলতি ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল)-এর সমন্বিত নিট মুনাফা ২৫ শতাংশ বেড়েছে।
ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনুমোদিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির সমন্বিত নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪৩৯ কোটি টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ইবিএলের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৬৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে পুনর্নির্ধারিত ইপিএস ছিল ২ টাকা ১৪ পয়সা।
একক বা স্ট্যান্ডঅ্যালোন ভিত্তিতে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয়ও বেড়েছে। এ সময়ে ইপিএস ২ টাকা ৩৫ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৬১ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকেও ব্যাংকটির আয় বেড়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে সমন্বিত ইপিএস ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ টাকা ৪৬ পয়সা।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি সিকিউরিটিজ বা ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নন-ফান্ডেড আয় বৃদ্ধি এবং পরিচালন দক্ষতার কারণে এই প্রবৃদ্ধি এসেছে। আকর্ষণীয় সুদের হারের কারণে সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ ব্যাংকের জন্য লাভজনক হয়েছে।
তবে চলতি বছরের প্রথমার্ধে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) কমেছে। আগের বছরের ১৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৫৭ পয়সায়।
আর্থিক ভিত্তির দিক থেকেও উন্নতি করেছে ইবিএল। ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) বেড়ে হয়েছে ৩০ টাকা ৭১ পয়সা। আগের বছর যা ছিল ২৭ টাকা ০৭ পয়সা। একক ভিত্তিতে শেয়ারপ্রতি এনএভি দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ১২ পয়সা।
ইবিএল জানিয়েছে, দক্ষ পরিচালনা ও বিচক্ষণ ঋণ ব্যবস্থাপনার কারণে ব্যাংকটি দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি ঋণের হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকটির ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার সম্প্রসারণ, ট্রেড ফাইন্যান্স, কার্ড সেবা ও অন্যান্য ফি-ভিত্তিক আয় বৃদ্ধি ভবিষ্যতেও মুনাফার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জন্য ইস্টার্ন ব্যাংক তার শেয়ারহোল্ডারদের ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ৩ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল।

