তফসিলি ব্যাংকগুলোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এত দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষিত নিজেদের চলতি হিসাবের বিপরীতে লিয়েন রেখে ব্যাংকগুলো এই সুবিধার মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি তারল্য বা জরুরি নগদ অর্থ সংগ্রহ করতে পারত। গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে একটি সার্কুলার জারি করে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার ডিসকাউন্টিং বা সংক্ষেপে টিটি ডিসকাউন্টিং মূলত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য একটি বিশেষ জরুরি অর্থায়ন ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করত। কোনো বাড়তি জামানত ছাড়াই শুধু নিজেদের চলতি হিসাবে লিয়েন রেখে ব্যাংকগুলো প্রয়োজনের সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দ্রুত নগদ অর্থ ধার করতে পারত এই সুবিধার আওতায়।
সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন তারল্য ব্যবস্থাপনার জন্য কল মানি মার্কেট, রেপো, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি এবং আন্তঃব্যাংক ঋণসহ বিকল্প ও কার্যকর একাধিক অর্থায়ন মাধ্যম ইতিমধ্যে চালু আছে। এসব বিকল্প ব্যবস্থা থাকায় চলতি হিসাবে লিয়েন রেখে আলাদাভাবে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা বহাল রাখার আর কোনো বাস্তব প্রয়োজনীয়তা নেই বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এ ছাড়া সার্কুলারে এটাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে এই সুবিধার ব্যবহার এমনিতেই ছিল খুবই সীমিত পর্যায়ে। এসব বিবেচনায় নিয়েই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে দেওয়া টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা গত ১ জুলাই থেকে কার্যকরভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের এটি কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

