সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের ব্যাংক খাতের প্রায় এক তৃতীয়াংশ অর্থ লোপাট হওয়ার কারণে প্রায় দুই কোটি আমানতকারী এখন চরম বিপাকে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বেসরকারি ব্যাংকের আয়োজনে বাংলা কিউআর কোড সংক্রান্ত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গভর্নর বলেন, বিদায়ী সরকার দেশের অর্থনীতিকে কার্যত পঙ্গু করে দিয়ে গেছে। তার ভাষায়, ব্যাংকিং খাতের যে অর্থ এখন খেলাপি হিসেবে দেখানো হচ্ছে, তার একটি বড় অংশ প্রকৃতপক্ষে খেলাপি নয়—বরং তা সরাসরি চুরি করে নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এই পরিস্থিতির কারণেই প্রায় দুই কোটি আমানতকারী এখন নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬ শতাংশে, যাকে তিনি খাতের জন্য একটি অশনিসংকেত বলে বর্ণনা করেন। তার মতে, এই অবস্থায় ব্যাংকিং খাত স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা কার্যত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ১৮ মাসের একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান গভর্নর। তিনি ব্যাখ্যা করেন, প্রথম ছয় মাসে খেলাপিদের জন্য এককালীন অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে ঋণ থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ দেওয়া হবে। এরপর বাকি এক বছরে সমস্যাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন এবং অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, এই দুটি আইন আগামী সংসদ অধিবেশনেই পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন ঋণ প্যাকেজ চালু হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের সহায়তায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও অবহিত করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর।

