সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের প্রাপ্য মুনাফায় কোনো ধরনের কর্তন বা হেয়ারকাট করা হবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে এই বিষয়ে আমানতকারীদের মধ্যে থাকা যাবতীয় বিভ্রান্তি দূর করে বিষয়টি সরাসরি জানিয়ে দিতে ব্যাংকটির শীর্ষ দুই কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালক তথা মুখপাত্র সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক ডেপুটি গভর্নরও। বৈঠকে গভর্নর ইসলামী ব্যাংকটির শীর্ষ দুই কর্মকর্তাকে বেশ কয়েকটি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী নিজেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে আমানতকারীদের মুনাফায় কোনো ধরনের কর্তন হবে না। তবে এত কিছুর পরও আমানতকারীদের একটি অংশের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে এখনো কিছুটা দ্বিধা বা অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা প্রতিটি আমানতকারীকে সরাসরি ও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে তাদের মুনাফার কোনো অংশই কাটা যাবে না।
এর পাশাপাশি গত বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে ঘোষিত একটি নির্দিষ্ট স্কিমের আওতায় ইতিমধ্যেই আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথাও উঠে এসেছে— আগামী সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারীরা তাদের বিভিন্ন ধরনের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের পাশাপাশি মেয়াদি আমানতের মূল অর্থও স্কিমে বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট নিয়মের বাইরে গিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তুলতে পারবেন। এই সুবিধা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকটিকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বৈঠকে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত পুনরায় চালু করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রায় সাড়ে পঁয়ত্রিশ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই ব্যাংকটি দেশের সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। এত বড় পরিসরের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর স্বাভাবিক কার্যক্রম যত দ্রুত সম্ভব পুরোপুরি চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আমানতকারীদের আস্থা ধরে রাখা এবং ব্যাংকটির সার্বিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয়।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি বড় ইসলামী ব্যাংকের এমন সংকটময় পরিস্থিতি থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার প্রক্রিয়া শুধু ওই একটি প্রতিষ্ঠানের জন্যই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক ইসলামী ব্যাংকিং খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সরাসরি হস্তক্ষেপ ও স্পষ্ট নির্দেশনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তারা।

