একসময় প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোকসান আর নানা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতায় জর্জরিত ছিল আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক। সেই অবস্থা কাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক, দক্ষ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক এবং একই সঙ্গে এই ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা একজন মেজর জেনারেল।
বৃহস্পতিবার সাভারে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ব্যাংকের ভোলা শাখারও উদ্বোধন করা হয়।
মহাপরিচালক বলেন, বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও কল্যাণে এই ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নেও এটি আরও কার্যকর অবদান রাখবে। তিনি জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রায় দুই বছর আগে ব্যাংকটির সার্বিক সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় প্রতিষ্ঠানটি বড় অঙ্কের লোকসান ও নানা অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চললেও ধারাবাহিক সংস্কারের মাধ্যমে এখন তা আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
মহাপরিচালক জানান, ব্যাংকের ডিজিটালাইজেশন, দক্ষ মানবসম্পদ নিয়োগ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি কার্যকর ও নেতৃত্বস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এ ছাড়া বাহিনীর সদস্যদের বৈদেশিক কর্মসংস্থান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষত সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন এবং সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে একটি প্রকল্পের কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যেখানে আর্থিক অংশীদার হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এই ব্যাংক।
তাঁর ভাষ্যমতে, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা ও উদ্যোগ এবং ব্যাংকের আর্থিক সহায়তাকে একত্র করে একটি সমন্বিত মডেলে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে, যার মাধ্যমে সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করা সম্ভব হবে।
ব্যাংকের সংস্কার ও সুশাসন প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে ব্যাংকের সেবা গ্রহণের যোগ্যতা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত ও স্বীকৃত, এবং নির্ধারিত যোগ্যতার বাইরে কেউ যেন অবৈধ উপায়ে সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা বেড়েছে এবং অনিয়মের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তিনি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান, এবং সুশাসন, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও শক্তিশালী আর্থিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে ব্যাংকটিকে বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সদস্যদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাংকের ভূমিকার একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে তিনজন আনসার সদস্যকে দুই লাখ টাকা করে ঋণের চেক তুলে দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাংকের কার্যকর ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ বাহিনী ও ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

