দেশের রপ্তানি খাতে অসামান্য অবদান রাখা প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের স্বীকৃতি জানাতে ফিরে এলো এইচএসবিসির বার্ষিক পুরস্কার আয়োজন। এবার নিয়ে টানা দশমবারের মতো এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস আয়োজন করছে ব্যাংকটি, যার মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের ভূমিকাকে সম্মানিত করা হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই পুরস্কারের ঘোষণা দেয় এইচএসবিসি বাংলাদেশ। মোট চারটি ক্যাটাগরিতে প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে এবার।
অনুষ্ঠানে এইচএসবিসি বাংলাদেশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, এই পুরস্কার মূলত সেসব অগ্রণী প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি, যারা বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নতুনভাবে গড়ে তুলছে। উচ্চপ্রযুক্তির উদ্ভাবন ও ডিজিটাল সেবা থেকে শুরু করে টেকসই উৎপাদন পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা দেশীয় পণ্যের ব্র্যান্ড ইমেজ এগিয়ে নিচ্ছেন, তাদের সৃজনশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধিতে নেতৃত্বের স্বীকৃতি দেওয়াই এই আয়োজনের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আগের আসরের বিজয়ীরাও নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন একটি আলোচনা পর্বে, যেখানে দেশের কয়েকটি স্বনামধন্য শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ নির্বাহীরা অংশ নেন।
এই পুরস্কারের বিশেষত্ব হলো, শুধু এইচএসবিসির গ্রাহক নয়— যেকোনো যোগ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এতে আবেদন করতে পারবে। বিজয়ীদের স্বীকৃতিস্বরূপ পদক দেওয়া হলেও কোনো অর্থ পুরস্কার নেই। অংশগ্রহণের জন্য কোনো মাশুলও লাগবে না।
পুরস্কার দেওয়া হবে মূলত চারটি ক্ষেত্রে। তৈরি পোশাকশিল্প ক্যাটাগরিতে অংশ নিতে হলে বার্ষিক রপ্তানি আয় কমপক্ষে ১০ কোটি মার্কিন ডলার হতে হবে, যেখানে সব ধরনের অ্যাপারেল পণ্য বিবেচনায় আসবে। পোশাকশিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ক্যাটাগরিতে যোগ্যতার সীমা কিছুটা কম, ৫ কোটি ডলার— এখানে পোশাক ও উৎপাদন খাতে সহায়ক পণ্য তৈরিকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিবেচিত হবে।
নতুন ও উদীয়মান উৎপাদন খাতের ক্যাটাগরিতে ন্যূনতম রপ্তানি আয় ১ কোটি ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে ইলেকট্রনিকস, হালকা প্রকৌশল, প্লাস্টিক, ফার্নিচার, জুতা, চামড়াজাত পণ্য এবং অটোমোটিভ যন্ত্রাংশের মতো বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত। আর সেবা খাতের ক্যাটাগরিতে অংশ নিতে বার্ষিক রপ্তানি আয় থাকতে হবে অন্তত ৫০ লাখ ডলার, যেখানে পেশাদারি, ডিজিটাল ও জ্ঞানভিত্তিক সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো বিবেচিত হবে।
আয়োজকদের ভাষ্যমতে, বিজয়ী নির্বাচনে শুধু রপ্তানি আয় নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনীতিতে অবদান, সামাজিক দায়বদ্ধতা, ব্যবসা পরিচালনার স্বচ্ছতা, কর্মক্ষেত্রে বৈচিত্র্য এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিবিধান পালনের মতো একাধিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।
আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মনোনয়ন জমা দিতে হবে। বিস্তারিত তথ্য ও মনোনয়ন ফরম সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিমূলক আয়োজন শুধু ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের সুনাম বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং বৈশ্বিক ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের রপ্তানি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে অপ্রচলিত ও উদীয়মান খাতগুলোকে আলাদাভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার এই উদ্যোগ দেশের রপ্তানি ঝুড়িকে বৈচিত্র্যময় করার প্রয়াসকেও কিছুটা উৎসাহিত করতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

