দেশের ওষুধশিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ সহায়তা নিয়ে এলো আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের এই সংস্থাটি দেশের নবম বৃহত্তম ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানকে ৩ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানটির চলতি মূলধন শক্তিশালী করা, প্রয়োজনীয় আমদানিকৃত কাঁচামাল সংগ্রহ নিশ্চিত করা এবং বিশেষায়িত ওষুধ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহৃত হবে।
গত মঙ্গলবার ঢাকায় দুই পক্ষের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাতারে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই অংশীদারত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর ভাষ্যমতে, শুধু অর্থায়ন নয়, বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে সংস্থাটির অভিজ্ঞতাও তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণে এবং হরমোনসহ বিশেষায়িত ওষুধের বাজারে শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে সহায়ক হবে।
ঋণের অর্থ মূলত প্রতিষ্ঠানটির ডলারভিত্তিক চলতি মূলধনের চাহিদা মেটাতে ব্যয় হবে। বিশেষ করে দেশে ওষুধ উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য সক্রিয় ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান এবং অন্যান্য জরুরি কাঁচামাল আমদানিতে এই অর্থ কাজে লাগবে। প্রতিষ্ঠানটি এই তহবিল দিয়ে হরমোন বিভাগ সম্প্রসারণ এবং বিশেষায়িত ওষুধ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৩৩০টি উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে এই বিভাগে নারী কর্মীর অংশগ্রহণ অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও স্থির করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে এই ওষুধ কোম্পানি আটশোর বেশি পণ্য তৈরি করছে এবং সারাদেশে প্রায় দেড় লাখেরও বেশি ফার্মেসি ও ক্লিনিকে তাদের ওষুধ সরবরাহ হয়। প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে দশ হাজারের বেশি মানুষ কর্মরত। একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার সাম্প্রতিক বাজার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ওষুধ বাজারে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান নবম, এবং গত চার বছরে তারা প্রায় সাড়ে তেইশ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি বার্ষিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের শীর্ষ পাঁচ ওষুধ প্রস্তুতকারকের তালিকায় জায়গা করে নেওয়া।
এ বিষয়ে ঋণদাতা সংস্থার এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এক আঞ্চলিক শিল্প পরিচালক বলেন, প্রতিদিন লাখো মানুষ যে ওষুধের ওপর নির্ভরশীল, তার নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করতে জরুরি কাঁচামালের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ অপরিহার্য। এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করাই তাদের লক্ষ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ স্থানীয় ওষুধশিল্পের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ওষুধ উৎপাদন ব্যবস্থা এখনো বড় অংশে আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল, ফলে বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতা এবং স্থিতিশীল অর্থায়ন উৎস নিশ্চিত হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি কমে আসে। পাশাপাশি বিশেষায়িত ও উচ্চমূল্যের ওষুধ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রবণতা দেশের ওষুধ রপ্তানি সম্ভাবনাকেও নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই উদ্যোগ সরকারের স্বাস্থ্যসেবা মান উন্নয়ন সংক্রান্ত পরিকল্পনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।

