দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও আর্থিক সংকটে থাকা চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের অর্থ ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে আবিবা, ফারিস্ট, এফএস ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং—এই চার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আমানত ফেরতের জন্য একটি পৃথক স্কিম তৈরি করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই এ স্কিম চূড়ান্ত করে ঘোষণা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় তহবিল পাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হবে।
প্রস্তাবিত স্কিম অনুযায়ী, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত আমানতকারীরা পুরো অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন। আর ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে ৯০ শতাংশ এবং ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতের ক্ষেত্রে ৮৫ শতাংশ অর্থ ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আমানতের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রথম ধাপে ফেরতের হারও কমবে। যেসব গ্রাহক পুরো অর্থ একসঙ্গে পাবেন না, তাদের বাকি অর্থ কবে এবং কীভাবে পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়েও স্কিমে বিস্তারিত সময়সূচি রাখা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, পাঁচটি ব্যাংকের জন্য আগে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তার আদলে নতুন স্কিম তৈরি করা হচ্ছে। তবে এটি হুবহু একই হবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্কিমে কারা কত টাকা পাবেন, কারা আংশিক অর্থ পাবেন এবং বাকি অর্থ কবে পরিশোধ করা হবে—এসব বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে আমানতকারীদের অর্থ আটকে আছে। নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য হলো একদিকে গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করা, অন্যদিকে অদক্ষ ও দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর অবসায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক এম কে মুজেরির মতে, আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করেই এসব অদক্ষ প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এরপর অবসায়ন প্রক্রিয়া শেষ করার দিকে এগোতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের বিষয়টি অবসায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের সম্পদের ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হবে।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনের অনিয়মের কারণে আমানতকারীদের মধ্যে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার জন্য আমানত ফেরতের কার্যকর ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে ছোট আমানতকারীদের অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের চাপ কিছুটা কমার পাশাপাশি আর্থিক খাতে আস্থা পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বড় আমানতকারীদের অর্থ ফেরত এবং অবসায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সম্পদ ও আর্থিক দায়-দেনার হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এখন সরকারের অনুমোদন, প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান এবং চূড়ান্ত স্কিম ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন চার প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীরা।

