বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রীকে ঘিরে যুক্তরাজ্যে আইনি জটিলতা নতুন মোড় নিয়েছে। এবার তাকে দেউলিয়া ঘোষণার জন্য লন্ডনের হাইকোর্টে আবেদন জমা পড়েছে, যা তার সম্পত্তি নিয়ে চলমান তদন্তকে আরও জোরদার করছে।
জানা গেছে, দেশের একটি বেসরকারি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি লন্ডনের আদালতে এই আবেদনটি দাখিল করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সাবেক এই মন্ত্রীর কাছে তাদের বড় অঙ্কের অর্থ পাওনা রয়ে গেছে, যা আদায়ের জন্যই এই আইনি পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সময় ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা এই ব্যক্তি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একজন সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এর আগেই যুক্তরাজ্যের অপরাধ দমন সংক্রান্ত একটি জাতীয় সংস্থা তার ও তার পরিবারের নামে থাকা প্রায় সাড়ে আঠারো কোটি পাউন্ড মূল্যের—বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়—সম্পদ আটকে দিয়েছিল। ওই অভিযানে তিনশ চল্লিশটির বেশি স্থাবর সম্পত্তি জব্দের আওতায় আসে। একই সঙ্গে বাংলাদেশেও তার বিরুদ্ধে অর্থপাচার এবং দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে আবাসন খাতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেওয়া একটি প্রতিষ্ঠান—যা বর্তমানে কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে—সাবেক এই মন্ত্রীর নামে-বেনামে থাকা দেড়শর বেশি সম্পত্তি ক্রয়চুক্তির বিপরীতে অর্থায়ন করেছিল। এই বিপুল সম্পত্তির তদারকির দায়িত্বে থাকা একটি হোল্ডিং কোম্পানিও এখন আদালতের নির্দেশে বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে, অর্থাৎ ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখন সরাসরি প্রতিষ্ঠানটির হাতে নেই।
এ ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সাবেক মন্ত্রীর ব্যবহৃত পূর্ববর্তী একটি যোগাযোগ মাধ্যমেও সাড়া মেলেনি, ফলে তার নিজের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আলোচিত এই ব্যক্তি টানা পাঁচ বছর ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, যা শেষ হয় দুই হাজার চব্বিশ সালের শুরুর দিকে। এরপর ওই বছরের মাঝামাঝি সময়ে দীর্ঘ পনেরো বছরের শাসনামলের ইতি টেনে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া গণআন্দোলনের মুখে তখনকার প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে প্রতিবেশী একটি দেশে আশ্রয় নেন। বর্তমানে তার এবং তার ঘনিষ্ঠ পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধেও দুর্নীতি সংক্রান্ত ভিন্ন ভিন্ন মামলা ও অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বিদেশে সম্পদ জব্দ এবং দেউলিয়া ঘোষণার মতো আইনি পদক্ষেপ একত্রে এগিয়ে চললে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আর্থিক ও আইনগত অবস্থান আরও চাপে পড়তে পারে। বিশেষ করে বিদেশে থাকা সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর অর্থ হলো, দেশে ফেরত আনা অর্থ পাচারের অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় সূত্র হয়ে উঠতে পারে।

