বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবায় সমতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং কর্মসংস্থান তৈরিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ।
ব্যাংকটি ‘ইএসজি বিজনেস অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ স্বাস্থ্যসেবায় সমতা ও অন্তর্ভুক্তি পুরস্কার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি পুরস্কার অর্জন করেছে।
ব্যাংকটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এশিয়া অঞ্চলে পরিবেশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সুশাসনভিত্তিক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দিতে এই পুরস্কারের আয়োজন করা হয়।
সিঙ্গাপুরে আয়োজিত এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক প্রভাব তৈরিতে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মান জানানো হয়।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, এই স্বীকৃতি মানুষের পাশে থাকার ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
তিনি বলেন, প্রকৃত টেকসই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।
ব্যাংকটির স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের আওতায় দেশের বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বরেন্দ্র অঞ্চল, বিল এলাকা, চরাঞ্চল, উপকূল, পাহাড় ও হাওরসহ ছয়টি ভিন্ন অঞ্চলের ১০০টি ইউনিয়নে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরাসরি ৩০ হাজারের বেশি কিশোরী ও তরুণী স্বাস্থ্যসেবা পেয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় ১ লাখ মানুষ পরোক্ষভাবে এর সুফল পেয়েছেন।
এই কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবেই ব্যাংকটি স্বাস্থ্যসেবায় সমতা ও অন্তর্ভুক্তি পুরস্কার অর্জন করেছে।
অন্যদিকে তরুণ, নারী এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি ও দক্ষতা উন্নয়নে অবদানের জন্য ব্যাংকটি পেয়েছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি পুরস্কার।
তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে ব্যাংকটি ইউসেপের সঙ্গে এবং শিশু ও তরুণদের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে ইউনিসেফের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়নে শুধু ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, সামাজিক প্রভাব ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ ধরনের উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ভূমিকা তুলে ধরে।

