চলমান ‘ডিপোজিট ও রিকভারি ক্যাম্পেইন ২০২৬’-এর আওতায় ১১২ কর্মদিবসে ৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকার নতুন আমানত সংগ্রহ করেছে দি প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটির ভাষ্য, গ্রাহকদের আস্থা, আধুনিক সেবা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রবৃদ্ধির এই ধারা ধরে রাখার আশা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী, প্রচারণাটি দুই ধাপে পরিচালিত হয়েছে। চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৬০ কর্মদিবসে সংগৃহীত হয়েছে ৩ হাজার ৩ কোটি টাকা। এরপর ১৫ জুলাই থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫২ কর্মদিবসে আরও ২ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা জমা পড়েছে। দুই ধাপের অঙ্ক যোগ করলে মোট দাঁড়ায় ৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান ডা. আরিফুর রহমান বলেন, অতীতের দুর্ভাগ্যজনক ব্যাংক পরিস্থিতি কাটিয়ে এই বিপুল আমানত অর্জন সহকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও গ্রাহকদের অব্যাহত সমর্থনের ফল। তাঁর ভাষ্য, গ্রাহকদের আস্থাই ব্যাংকের শক্তি।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনজুর মফিজ বলেন, সুপরিকল্পিত উদ্যোগ, কার্যকর বাস্তবায়ন ও টিমওয়ার্কের সুফল এই আমানত সংগ্রহ। তিনি জানান, গ্রাহকসেবার মান প্রতিদিন আরও উন্নত করতে ব্যাংকটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এই অর্জনের কয়েকটি দিক বিশ্লেষণের দাবি রাখে। প্রথমত, আস্থা ফেরার ইঙ্গিত। প্রিমিয়ার ব্যাংক অতীতে ব্যবস্থাপনাগত সংকট ও তারল্যচাপের মুখে পড়েছিল বলে চেয়ারম্যানের বক্তব্যেই ইঙ্গিত মেলে। তাই নতুন আমানত সংগ্রহ গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের একটি ইতিবাচক লক্ষণ। তবে আমানত বাড়া আর সামগ্রিক আর্থিক স্বাস্থ্য ফেরা এক কথা নয়।
দ্বিতীয়ত, গড় হিসাবের চিত্র। দুই ধাপের তথ্য থেকে দেখা যায়, প্রথম ধাপে দৈনিক গড়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা সংগৃহীত হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে তা প্রায় ৪৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ সংগ্রহের গতি মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল, তবে দ্বিতীয় ধাপে সামান্য কমেছে। প্রচারণা দীর্ঘ হলে এই গতি ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
তৃতীয়ত, এখানে ‘নতুন ডিপোজিট’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। সংগৃহীত অঙ্ক থেকে মেয়াদপূর্তিতে উঠে যাওয়া বা তুলে নেওয়া আমানত বাদ দিলে ব্যাংকের নিট আমানত কতটা বেড়েছে, তা জানা গেলে চিত্র আরও পরিষ্কার হতো। প্রকৃত সাফল্য বুঝতে সেই নিট হিসাব জরুরি।
চতুর্থত, ক্যাম্পেইনের নামেই ‘রিকভারি’ যুক্ত থাকলেও বিজ্ঞপ্তিতে খেলাপি ঋণ আদায়ের কোনো তথ্য নেই। খেলাপি ঋণ আদায় ও মূলধন পর্যাপ্ততার অবস্থা ব্যাংকের স্থিতিশীলতার বড় নির্ধারক। এসব তথ্য প্রকাশ করা হলে আমানতকারীদের আস্থা আরও মজবুত হবে।
পঞ্চমত, সামগ্রিক ব্যাংক খাতের প্রেক্ষাপট। সম্প্রতি অনেক ব্যাংক আমানতকারীদের আস্থার সংকটে ভুগেছে। এই সময়ে কোনো ব্যাংক বড় অঙ্কের আমানত টানতে পারলে তা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে এই আমানত কতটা উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ হবে এবং ঋণের মান কেমন থাকবে, তার ওপরই দীর্ঘমেয়াদি সুফল নির্ভর করবে।
সব মিলিয়ে ৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ প্রিমিয়ার ব্যাংকের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন। তবে এটিকে স্থায়ী ঘুরে দাঁড়ানোর প্রমাণ বলতে হলে আমানতের ধারাবাহিকতা, খেলাপি ঋণ আদায় ও আর্থিক সূচকের উন্নতিও দেখাতে হবে। এখন দেখার বিষয়, ব্যাংকটি এই আস্থা কতটা টেকসইভাবে ধরে রাখতে পারে।

