মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের জন্য নীতিসুদ অপরিবর্তিত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় প্রান্তিকের মুদ্রানীতি বিবৃতি প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বর্তমান নীতিসুদে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং নতুন বেতন কাঠামো চালুর কারণে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই নীতিসুদের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়াতে পারে। এর প্রভাব পণ্য ও সেবার দামের ওপর পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
একই সঙ্গে সরকারি কর্মীদের নতুন বেতন কাঠামো চালুর ফলে মানুষের আয় ও ভোগ ব্যয় বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মুদ্রানীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণত সুদের হার ব্যবহার করে বাজারে অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। মূল্যস্ফীতি বেশি হলে ঋণের খরচ বাড়িয়ে চাহিদা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে বোঝা যাচ্ছে, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি কমে না আসা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক অবস্থান বজায় রাখতে চায়।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি মূল্য, সরকারি ব্যয়, বাজার সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যস্ফীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে এখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার ভারসাম্য রক্ষা করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

