রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির শীর্ষ পদে দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। কৃষি ও গ্রামীণ অর্থায়নে বিশেষায়িত এই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিচালনায় এখন একজন প্রবীণ একাডেমিক ব্যক্তিত্বের নেতৃত্ব দেখা যাবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে তাঁর নিয়োগ নিশ্চিত করে। প্রজ্ঞাপন জারির দুই দিনের মাথায়, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাকাবের জনসংযোগ কর্মকর্তার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রফিকুল ইসলাম একাধারে অর্থনীতিবিদ, অধ্যাপক ও লেখক। তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয় ১৯৭৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি পেয়ে অধ্যাপক হন। ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষকতার বাইরেও তাঁর বিস্তৃত প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটিজের কাউন্সিল সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
তাঁর জন্ম ১৯৫০ সালে বগুড়া সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের তেলিহারা গ্রামে। শিক্ষাজীবনের পুরোটাই কেটেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে ১৯৭০ সালে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্মান, ১৯৭১ সালে স্নাতকোত্তর এবং ১৯৭৭ সালে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের বাবা।
রাকাব মূলত কৃষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে ঋণসহায়তা দেওয়ার জন্য পরিচিত। উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে ব্যাংকটির ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে অর্থনীতির অধ্যাপককে বসানোর বিষয়টি নীতিনির্ধারণ ও তাত্ত্বিক দক্ষতার সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে ব্যাংকের ঋণ আদায়, সুশাসন ও আর্থিক স্বচ্ছতার মতো বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কতটা কাজে লাগে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
বিশেষায়িত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সামনে সাধারণত খেলাপি ঋণ, তদারকির ঘাটতি ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার মতো সমস্যা থাকে। নতুন চেয়ারম্যানের কাছে তাই কৃষি খাতে সহজ ও সময়োপযোগী ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য সুসংহত করার প্রত্যাশা থাকবে। তাঁর শিক্ষাগত ও প্রশাসনিক পটভূমি সেই প্রত্যাশা পূরণে কতটা সহায়ক হয়, তা আগামী দিনের কর্মকাণ্ডেই স্পষ্ট হবে।

