আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ তোলার সুযোগ দিতে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির সব শাখা ও এটিএম বুথে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এতে ব্যাংকটির গ্রাহকেরা স্বাভাবিকভাবে টাকা তুলতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে টাকা তুলতে ভোগান্তিতে থাকা আমানতকারীদের জন্য এটি স্বস্তির খবর হতে পারে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হক। এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চারজন ডেপুটি গভর্নর উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হলেন মো. হাবিবুর রহমান, মো. কবির আহমাদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান।
সাক্ষাৎকালে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি নানা পদক্ষেপ নেওয়ায় ব্যাংকটিতে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষতা ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে ঋণ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গভর্নর ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি এবং আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ তোলার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা জানান। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ধরে রাখা এবং কার্যক্রম সুশৃঙ্খল রাখতে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। ব্যাংকের সব আমানতকারী যাতে চাহিদামতো টাকা তুলতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকটির সংকটের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ইতিহাস। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীর্ঘ সময় ধরে ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ছিল সিকদার গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপের পর গ্রুপটি ব্যাংকের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায়। এখন ব্যাংকটির পরিচালনায় যুক্ত আছেন মাল্টিমোড গ্রুপ, হোসাফ গ্রুপ ও আর্মানা গ্রুপের পরিবারের সদস্যরা। অতীতের অনিয়ম ও লুটপাটের জের হিসেবে ব্যাংকটি এখনো সংকটে। খেলাপি ঋণের উচ্চ হার, টানা লোকসান এবং গ্রাহকদের টাকা তুলতে সমস্যা, এসবই তার প্রমাণ। বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ সহায়তা দেওয়া হলেও ব্যাংকটির স্বাভাবিক লেনদেন এখনো শুরু হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটি ২০২২ সাল থেকে প্রতিবছর লোকসান গুনছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের দেওয়া মোট ঋণের ৫৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ এখন খেলাপি, যার পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি আছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির লোকসান ছিল ১ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা, আর এখনো তারা লোকসানেই আছে।
এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, শুধু নগদ অর্থ সরবরাহ করলেই ব্যাংকটির সংকট কাটবে না। খেলাপি ঋণের এত বড় অংশ এবং বিপুল সঞ্চিতি ঘাটতির কারণে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি এখনো দুর্বল। তবে আমানতকারীরা প্রয়োজনমতো টাকা তুলতে পারলে ব্যাংকের প্রতি আস্থা কিছুটা ফিরতে পারে। এখন নজর থাকবে, ১৫ অক্টোবর থেকে শাখা ও এটিএম বুথে কতটা নিয়মিত নগদ সরবরাহ থাকে এবং খেলাপি ঋণ আদায় ও মূলধন ঘাটতি পূরণে ব্যাংকটি ও বাংলাদেশ ব্যাংক কী পদক্ষেপ নেয়।

