রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে (বিকেবি) উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন আবু সাঈদ মো. রওশানুল হক। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ৮ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপনের পর তিনি নতুন এ পদে যোগ দিয়েছেন। ব্যাংকের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
আড়াই দশকের বেশি সময় ধরে ব্যাংকিং খাতে কাজ করছেন রওশানুল হক। এই দীর্ঘ পথচলায় তিনি একাধিক ব্যাংকে গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত দায়িত্ব সামলেছেন। পদোন্নতির আগে তিনি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে মহাব্যবস্থাপক (জিএম) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে প্রশাসন মহাবিভাগ, পরিকল্পনা ও পরিচালন মহাবিভাগ এবং আন্তর্জাতিক ও হিসাব মহাবিভাগের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পাশাপাশি ব্যাংকের প্রধান মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা (সিএএমএলসিও) হিসেবেও কাজ করেছেন।
কর্মজীবনের শুরুটা ১৯৯৮ সালে, জনতা ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে। এরপর তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক পদে যোগ দেন। পরে প্রাইম ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ করে বেসিক ব্যাংকে তাঁর কর্মজীবন ছিল ২১ বছরের। এই সময়ে তিনি শাখা ব্যবস্থাপক, ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা ও ইনোভেশন অফিসার হিসেবে কাজ করেছেন। এ ছাড়া প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন মহাবিভাগ ও সার্কেলের প্রধানের দায়িত্বও সামলেছেন।
শিক্ষাজীবনে রওশানুল হক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যান বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ডাটা সায়েন্স ও মেশিন লার্নিং বিষয়ে পিএইচডি গবেষণা করছেন। ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ থেকে তিনি ব্যাংকিং ডিপ্লোমাও সম্পন্ন করেছেন।
প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা বিষয়েও তাঁর দক্ষতার প্রমাণ মেলে। তিনি সিসকো সার্টিফায়েড নেটওয়ার্ক অ্যাসোসিয়েট (সিসিএনএ) সনদ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া ডাটা সায়েন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশিক্ষণ ও ডিগ্রি রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। সামাজিক ব্যাংকিং, কৃষি অর্থায়ন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা বাড়াতে তিনি যুক্তরাজ্য, শেনজেনভুক্ত একাধিক দেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ ১৫টিরও বেশি দেশ ভ্রমণ করেছেন।
কৃষি ব্যাংক দেশের কৃষি খাতের অন্যতম প্রধান অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকটির শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় এমন একজন কর্মকর্তার যুক্ত হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাঁর প্রশাসন, পরিকল্পনা, হিসাব, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে বিস্তৃত অভিজ্ঞতা আছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তি ও তথ্য বিশ্লেষণের গুরুত্ব বাড়ছে। এ অবস্থায় ডাটা সায়েন্স ও সাইবার নিরাপত্তায় তাঁর প্রশিক্ষণ ব্যাংকের ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগে কাজে লাগতে পারে। তবে নতুন দায়িত্বে তিনি কোন কোন বিভাগ দেখভাল করবেন, সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তা উল্লেখ করা হয়নি।

