বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) একাধিক নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে ৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে এই ডলার কেনা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য সূত্রে জানা গেছে।
চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ক্রয় করা হয়েছে ৫ হাজার ৪৬৮ দশমিক ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ, চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে সক্রিয় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং বাজারে অস্থিরতা এড়ানোই এই পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রপ্তানি খাতকে পুনরুদ্ধারের চলমান কৌশলের অংশ হিসেবেও এই ডলার ক্রয় করা হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিস্থিতি অনুযায়ী ডলার কেনাবেচা করে থাকে—এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে ডলারের সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য রক্ষা করা বর্তমানে অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ানোর চেষ্টা চললেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এখনো পুরোপুরি অনুকূলে নয়। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি হস্তক্ষেপ বিনিময় হারকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
এদিকে ডলার ক্রয়ের মাধ্যমে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে একটি ইতিবাচক বার্তাও দেওয়া হচ্ছে—কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ২৪ ফেব্রুয়ারির এই ডলার ক্রয় কেবল একটি নিয়মিত লেনদেন নয়; বরং বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার কৌশলেরই অংশ। সামনের দিনগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতি কেমন থাকে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

