রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড পাঁচ অর্থবছরে অতিরিক্ত কর পরিশোধের অভিযোগ তুলে প্রায় ৬০ কোটি টাকার বেশি অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর নির্ধারণ পদ্ধতির অসামঞ্জস্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত কর কেটে নেওয়া হচ্ছে, যা তাদের নগদ প্রবাহ ও কার্যক্রমে চাপ সৃষ্টি করছে।
সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলে পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি উত্থাপন করা হয়। সেখানে বলা হয়, কোম্পানিটি সরকার নির্ধারিত কমিশন বা মার্জিনের ভিত্তিতে তেল বিপণন করে থাকে। কিন্তু লাভের ওপর কর নির্ধারণ না করে পুরো বিক্রয়মূল্যের ওপর উৎসে কর কেটে নেওয়ায় প্রকৃত করের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রিতে নির্ধারিত হারের তুলনায় বেশি কর কাটা হয়েছে। ফলে এক লিটার পণ্যে কয়েক পয়সা করে অতিরিক্ত কর জমা হয়েছে, যা দীর্ঘ পাঁচ বছরে বড় অঙ্কে দাঁড়িয়েছে। ২০২১–২২ অর্থবছর থেকে ২০২৫–২৬ পর্যন্ত হিসাব মিলিয়ে ফেরতযোগ্য করের পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি ১৭ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
মেঘনা পেট্রোলিয়াম জানায়, এই অর্থ ফেরত না পাওয়ায় তাদের নিয়মিত আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি তারা বলছে, আয়কর আইনের আওতায় নির্ধারিত করপোরেট করহার অনুযায়ী তাদের কর প্রদান করা উচিত, কিন্তু বাস্তবে তার চেয়ে বেশি কর কেটে নেওয়া হচ্ছে।
কোম্পানির অভিযোগ, বিপণন খাতের প্রকৃত মুনাফার তুলনায় উৎসে কর কর্তনের হার বেশি হওয়ায় অনেক সময় বছরের শেষে লাভের চেয়ে করের চাপ বেশি হয়ে যাচ্ছে, যা ব্যবসা পরিচালনায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি করছে।
এ বিষয়ে দ্রুত সমাধানের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের মতে, প্রশাসনিক ও নীতিগত জটিলতা দ্রুত নিরসন না হলে আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি খাতের মতো কৌশলগত খাতে কর কাঠামো পরিষ্কার ও বাস্তবসম্মত হওয়া জরুরি। না হলে একদিকে সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হয়, অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সব মিলিয়ে এই কর ফেরত দাবি এখন শুধু একটি আর্থিক ইস্যু নয়, বরং জ্বালানি খাতের করনীতি ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের কার্যকারিতা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

