দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন লিমিটেড ২০২৫ সালের জন্য শক্তিশালী আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। সর্বশেষ নিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটি কর-পরবর্তী নিট মুনাফা অর্জন করেছে প্রায় ২ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা।
কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা সোমবার (২০ এপ্রিল) ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ২০২৫ সালের আর্থিক হিসাব ও লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই সভা আয়োজন করা হয়, যাতে শেয়ারহোল্ডারদের অংশগ্রহণ সহজ হয়।
সভায় মোট ২১৫ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়, যার মধ্যে ১০৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে শেয়ারহোল্ডাররা ২১ টাকা ৫০ পয়সা নগদ লভ্যাংশ পাবেন। এই লভ্যাংশ কোম্পানির মোট মুনাফার প্রায় ৯৮ শতাংশের সমান।
সভায় বোর্ড চেয়ারম্যান জানান, ২০২৫ সাল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও প্রতিযোগিতার মধ্যেও স্থিতিশীল অগ্রগতির বছর ছিল। গ্রাহকসেবা উন্নয়ন, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল সেবার মান বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছে।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, আলোচ্য বছরে কোম্পানির মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। একই সময়ে গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮ কোটি ৩৯ লাখের বেশি, যার মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৮৭ লাখ ব্যবহারকারী ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করছেন।
তিনি আরও জানান, ডিজিটাল সেবার বিস্তারে কোম্পানির মোবাইল অ্যাপভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম এখন ২ কোটির বেশি ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছেছে। পাশাপাশি নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে, যা অপারেশন ও গ্রাহকসেবায় কার্যকারিতা বৃদ্ধি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ মুনাফা ও বড় অঙ্কের লভ্যাংশ ঘোষণার মাধ্যমে গ্রামীণফোন বাজারে তার শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। পাশাপাশি টেলিকম খাতে স্থিতিশীল আয় প্রবাহ বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে কাজ করছে।সব মিলিয়ে, চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও গ্রামীণফোনের শক্তিশালী আর্থিক পারফরম্যান্স ও উচ্চ লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও জোরদার করেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

