মোবাইলভিত্তিক আর্থিক সেবায় সঞ্চয়ের নতুন ধারা তৈরি করেছে বিকাশ। এখন পর্যন্ত এই প্ল্যাটফর্মে ৬০ লাখের বেশি গ্রাহক ডিপিএস (ডিপোজিট পেনশন স্কিম) খুলেছেন, যা দেশের ডিজিটাল সঞ্চয় ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। সীমিত আয়ের মানুষও সহজে সঞ্চয়ের সুযোগ পাচ্ছেন বলে ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।
আগে অনেকেই ভাবতেন, অল্প টাকা জমাতে ব্যাংকে যাওয়া ঝামেলার। কিন্তু মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কয়েক মিনিটেই ডিপিএস খোলা যাচ্ছে, কোনো জটিল কাগজপত্র ছাড়াই। ফলে শহর ও গ্রাম—দুই জায়গাতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণদের অংশগ্রহণ বেশি, কারণ ৩৫ বছরের নিচের গ্রাহকদের অংশ প্রায় অর্ধেক। নারী গ্রাহকদের অংশও উল্লেখযোগ্য, প্রায় ৩৪ শতাংশ।
এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকেরা সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিত্তিতে টাকা জমাতে পারেন। সপ্তাহে ন্যূনতম ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জমা দেওয়া যায়। মাসিক ক্ষেত্রে ৫০০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়ের সুযোগ রয়েছে। মেয়াদও নমনীয়—সাপ্তাহিক ডিপিএস ছয় মাস থেকে এক বছর এবং মাসিক ডিপিএস ছয় মাস থেকে চার বছর পর্যন্ত করা যায়।
মুনাফার হারও তুলনামূলক প্রতিযোগিতামূলক। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ থেকে পৌনে ১০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পাওয়া যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে, সপ্তাহে ২৫০ টাকা জমালে এক বছর শেষে প্রায় ১৩ হাজার টাকা পাওয়া যায়। একইভাবে সপ্তাহে ১ হাজার টাকা জমালে প্রায় ৫৪ হাজার টাকা এবং ৫ হাজার টাকা জমালে প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার টাকা পাওয়া সম্ভব। মাসিক ডিপিএসেও একই ধরনের সুবিধা রয়েছে; মাসে ১ হাজার টাকা জমালে এক বছরে প্রায় ১২ হাজার এবং চার বছরে প্রায় ৫৭ হাজার টাকার মতো পাওয়া যায়।
ডিজিটাল সঞ্চয়ের এই প্ল্যাটফর্মে গ্রাহকেরা বিভিন্ন উদ্দেশ্যে টাকা জমাচ্ছেন—ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, চিকিৎসা ব্যয়, ব্যবসা শুরু, গৃহস্থালি প্রয়োজন, শিক্ষা কিংবা ভ্রমণ। অনেকেই ঋণ পরিশোধের জন্যও সঞ্চয় করছেন। এতে আর্থিক পরিকল্পনা আরও সহজ হচ্ছে।
এছাড়া ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক ডিপিএস সুবিধাও যুক্ত হয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট মেয়াদে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমিয়ে লাভের অংশ পাওয়া যায়। এতে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও অনেক গ্রাহক সঞ্চয়ে আগ্রহী হচ্ছেন।
ডিপিএস খোলার প্রক্রিয়াটিও সহজ। অ্যাপে গিয়ে সঞ্চয় অপশন থেকে ডিপিএস নির্বাচন করে মেয়াদ, কিস্তির ধরন এবং প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে হয়। নমিনি তথ্য যোগ করার পরই হিসাব চালু হয়ে যায় এবং মোবাইলে নিশ্চিত বার্তা আসে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কিস্তির টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হয়, যা নিয়মিত সঞ্চয়কে আরও সহজ করে।
সব মিলিয়ে, বিকাশের মাধ্যমে ডিপিএস এখন শুধু একটি সঞ্চয় পদ্ধতি নয়; বরং এটি ডিজিটাল অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্তির একটি বড় মাধ্যম হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে দেশের সঞ্চয় হার বাড়াতে এবং ব্যক্তিগত আর্থিক স্থিতি উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

