মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর বাজারেও। কাঁচামাল সংকট ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কনডমসহ সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম বড় উৎপাদক কারেক্স জানিয়েছে, সরবরাহ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ীভাবে বিঘ্নিত হলে মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে উঠবে। প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়ার চাপ শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরই পড়ছে।
সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় কনডম তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল—যেমন সিন্থেটিক রাবার, নাইট্রাইল, প্যাকেজিং উপকরণ ও লুব্রিকেন্ট—সবকিছুর দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে জাহাজ পরিবহনে বিলম্ব ও ভাড়া বৃদ্ধিও ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।
পরিবহন জটিলতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পৌঁছাতে সময় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আগে যেখানে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ পৌঁছাতে এক মাস লাগত, এখন তা দুই মাস পর্যন্ত সময় নিচ্ছে। ফলে অনেক পণ্য সমুদ্রে আটকে থাকায় বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এদিকে চাহিদাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। চলতি বছরে বৈশ্বিক চাহিদা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিতরণকারীদের মজুদ কমে যাওয়ায় বাজারে চাপ আরও বাড়ছে।
উৎপাদকরা বলছেন, তাদের কাছে স্বল্পমেয়াদে কিছু মজুদ থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ভবিষ্যতে সরবরাহ সংকট তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ সংকট বেশি প্রভাব ফেলতে পারে, যেখানে সরবরাহ পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু জ্বালানি বা শিল্পখাত নয়, স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট পণ্যেও মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। এতে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

