বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে জবরদস্তিমূলক শ্রম ও অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার অভিযোগকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটির দাবি, দেশের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পে কোনো ধরনের জবরদস্তিমূলক শ্রম নেই এবং অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার অভিযোগও ভিত্তিহীন।
সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক লিখিত অবস্থানপত্রে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) জানায়, বাংলাদেশের পোশাক খাত মূলত শ্রমঘন এবং নিম্ন থেকে মধ্যম মূল্যের পোশাক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয় না। ফলে মার্কিন উৎপাদন বা সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না।
বিজিএমইএর মতে, বাংলাদেশের রপ্তানি খাত আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স ও ডিউ ডিলিজেন্স মানদণ্ড মেনে পরিচালিত হচ্ছে। এ কারণে দেশটি বৈশ্বিকভাবে নিরাপদ উৎপাদন কাঠামোর স্বীকৃতি পেয়েছে। সংগঠনটি আরও জানায়, এ বিষয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নেই।
অবস্থানপত্রে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের অধীনে বিভিন্ন খাতে মোট ৫৫টি উইথহোল্ড রিলিজ অর্ডার (পণ্য ছাড় স্থগিতাদেশ) কার্যকর থাকলেও বাংলাদেশের পোশাক খাতের বিরুদ্ধে কোনো এমন আদেশ জারি হয়নি। এটি আন্তর্জাতিক শ্রমমান বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সরবরাহ শৃঙ্খলের অনুগত অবস্থানের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্রম পরিবেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিজিএমইএ জানায়, ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ধসের পর থেকে কর্মস্থলের নিরাপত্তায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ওই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর সহযোগিতায় অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স উদ্যোগের মাধ্যমে পোশাক খাতে বড় ধরনের নিরাপত্তা সংস্কার করা হয়। এতে অগ্নি, বৈদ্যুতিক ও কাঠামোগত নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।
সংগঠনটি আরও জানায়, বর্তমানে কারখানাগুলো নিয়মিতভাবে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিদর্শিত হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর কঠোর কমপ্লায়েন্স শর্ত এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যৌথভাবে গঠিত ডিউ ডিলিজেন্স ইউনিট শিল্পের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর সম্প্রতি ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শ্রম এবং উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে এসব নীতি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিজিএমইএর অবস্থান অনুযায়ী, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী দামে পোশাক সরবরাহ করে বৈশ্বিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রে এসব পণ্যের স্থানীয় উৎপাদন না থাকায় এটি মার্কিন উৎপাদনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়, বরং সরবরাহ ব্যবস্থাকে সহায়তা করছে।

