দেশে চলমান জ্বালানি সংকট ও বাজারে সময়সীমা কমে যাওয়ার প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে পহেলা বৈশাখ কেন্দ্রিক ব্যবসায়। ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, বৈশাখ উপলক্ষে তৈরি করা বিপুল পরিমাণ পণ্যের বড় অংশ অবিক্রীত থেকে গেছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা।
প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত বিক্রি না হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন ফ্যাশন ব্র্যান্ড, ডিজাইনার ও কারুশিল্পীরা। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের মৌসুমে মোট বিক্রির লক্ষ্য ছিল প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা, কিন্তু বাস্তবে তা অনেক কমে গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে সন্ধ্যার পর দোকান ও বিপণিবিতান বন্ধ রাখতে হওয়ায় ক্রেতাদের বড় একটি অংশ কেনাকাটার সুযোগ পাননি। সাধারণত সন্ধ্যা ও রাতের সময়ই বৈশাখি কেনাকাটার মূল সময় হলেও এবার সেই সুযোগ সীমিত ছিল। ফলে বিভিন্ন ব্র্যান্ডে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পণ্য অবিক্রীত রয়ে গেছে। কিছু ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত পণ্যের অর্ধেক পর্যন্ত বিক্রি করতে পারেনি।
ফ্যাশন খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় বিক্রি কিছুটা বাড়লেও তা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। সময়সীমা কমে যাওয়া এবং বাজারে মানুষের উপস্থিতি কমে যাওয়াই প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, সাধারণত বৈশাখের বিক্রির বড় অংশই সন্ধ্যার পর হয়। কিন্তু দোকান আগেভাগে বন্ধ হওয়ায় সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। এতে সামগ্রিক বিক্রিতে বড় ধস নেমেছে।
একাধিক ব্যবসায়ী সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, অবিক্রীত পণ্যের হার গড়ে ৪০ শতাংশের কাছাকাছি। এতে শুধু বড় ব্র্যান্ড নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ছোট উদ্যোক্তা ও কারুশিল্পীরাও। এদিকে বিক্রির চিত্র নিয়ে বিভিন্ন মত থাকলেও সবাই একমত যে, সময়সীমা কমে যাওয়ায় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দোকান খোলা রাখার সময় বাড়ানো গেলে বিক্রি আরও বাড়তে পারত।
অন্যদিকে অবিক্রীত পণ্যের চাপ ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থপ্রবাহে সংকট তৈরি করেছে। কর্মচারীর বেতন, দোকান ভাড়া ও উৎপাদন খরচ মেটানো নিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মৌসুমি বাণিজ্য নির্ভর খাতগুলো এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। সময়মতো বাজার সচল না থাকলে বিপুল বিনিয়োগ আটকে যায়, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে পুরো খাতের ওপর।

