দেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ অনুমতিতে কাঁচা পাট রপ্তানির সুযোগ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মোট ৬ হাজার ৩৭৭ টন পাট বিদেশে পাঠাতে পারবে এসব প্রতিষ্ঠান, যার বড় অংশ যাবে ভারতের বাজারে।
সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধান আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সরকারের আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কাঁচা পাট রপ্তানিতে অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হলেও নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম করা হয়েছে।
জানা গেছে, অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো আগে থেকেই বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফারের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করেছিল। অর্থাৎ পণ্য রপ্তানির আগেই তারা মূল্য পেয়েছে। এই কারণে তাদের বিশেষ বিবেচনায় রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
নীতিগতভাবে কাঁচা পাট রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে। সংশোধিত রপ্তানি নীতিতে এটিকে শর্তসাপেক্ষ পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ফলে এখন থেকে সরকার অনুমোদন ছাড়া কাঁচা পাট বিদেশে পাঠানো যাবে না।
অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে একটি প্রতিষ্ঠান, যারা ১ হাজার ৭৪০ টন পাট রপ্তানি করতে পারবে। অন্যদিকে সর্বনিম্ন বরাদ্দ পাওয়া একটি প্রতিষ্ঠান রপ্তানি করতে পারবে মাত্র ৬০ টন। এছাড়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ৩০০ টনের বেশি রপ্তানির সুযোগ পেয়েছে, যা মোট রপ্তানির বড় অংশ জুড়ে আছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শর্ত দিয়েছে, নির্ধারিত পরিমাণের বেশি রপ্তানি করা যাবে না এবং চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে সব চালান সম্পন্ন করতে হবে। বাংলাদেশ সাধারণত ভারতসহ বিভিন্ন দেশে কাঁচা পাট রপ্তানি করে থাকে, তবে প্রধান বাজার ভারতই। এ কারণে নতুন এই অনুমতির বড় অংশও ভারতমুখী হচ্ছে।
তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের পাটখাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। শিল্প মালিকদের একটি অংশ মনে করছে, কাঁচা পাট রপ্তানি বাড়লে স্থানীয় মিলগুলো কাঁচামালের সংকটে পড়তে পারে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে নীতিনির্ধারকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং আগাম অর্থ গ্রহণের দায় বিবেচনায় এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে একদিকে ব্যবসায়িক দায়বদ্ধতা বজায় রাখা হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে রপ্তানি চালু রাখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, কাঁচা পাট রপ্তানি ও দেশীয় শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সঠিক নীতি ও তদারকি ছাড়া এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হতে পারে।

