যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে নির্দিষ্ট শর্তের আওতায় সংশোধনের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
গতকাল সকালে সিলেটের বাইশটিলা এলাকায় জেলা পরিষদ ন্যাচারাল পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে কোনো চুক্তি একতরফাভাবে পরিবর্তন বা বাতিল করা যায় না। তবে বাস্তবায়নের সময় যদি দেখা যায় কোনো ধারা বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী, তাহলে চুক্তির ভেতরেই থাকা প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশোধনের সুযোগ থাকে।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, রাষ্ট্রীয় চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয়। এটি দুটি সার্বভৌম দেশের মধ্যে হয়, তাই এখানে ইচ্ছামতো পরিবর্তনের সুযোগ থাকে না। আন্তর্জাতিক চুক্তিতে দুই পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই ধারা নির্ধারণ করা হয়, যেখানে এক পক্ষের জন্য সুবিধা থাকলেও অন্য পক্ষের জন্য ভারসাম্য বজায় রাখা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রীর মতে, লক্ষ্য থাকে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করা। তবে বাস্তবায়নের সময় যদি কোনো ধারা বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়, তাহলে তা সংশোধনের সুযোগ আন্তর্জাতিক চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই থাকে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক আবেগ নয়, বরং বাস্তবতা ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে, কারণ এটি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় কিছু পণ্যের দাম সাময়িকভাবে বাড়তে পারে, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী মূল্যস্ফীতির দিকে যাবে না। তার ভাষায়, ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হয়েছে, যা প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি। তবে তিনি মনে করেন, এর প্রভাব এককালীন এবং এটি ধারাবাহিকভাবে বাজারে চাপ সৃষ্টি করবে না।
তিনি আরও বলেন, অনেকেই মনে করছেন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সব পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে, কিন্তু বাস্তব হিসাব করলে পরিবহন ব্যয়ের প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত। ডিমের বাজারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একটি ট্রাকে বিপুল পরিমাণ ডিম পরিবহন করা হয়। ফলে প্রতি ডিমে জ্বালানি খরচের প্রভাব খুবই সামান্য, যা অনেক সময় অযথা বড় করে দেখা হয়।
বাজারে ‘স্পেকুলেটিভ ইনফ্লেশন’ বা অনুমাননির্ভর মূল্যবৃদ্ধিকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শুধু ধারণার ভিত্তিতে দাম বাড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়। তিনি গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান, যাতে বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি না ঘটে।
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি বাজারকে প্রভাবিত বা ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করে, তা সফল হবে না। সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং অসাধু কর্মকাণ্ড হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যদিও শাস্তিমূলক পদক্ষেপে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য নয়।
সরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ব্যবসা পরিচালনায় দক্ষ নয় বলেই অনেক সময় লোকসান হয়, ফলে জনগণের অর্থ অপচয় ঘটে। তাই লোকসানি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সেগুলো পুনরায় চালু হয়ে কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আয় বাড়াতে পারে।

