যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের আরোপ করা ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে দেশটির একটি বাণিজ্য আদালত। গত বৃহস্পতিবার দেওয়া এ রায়ে আদালত জানিয়েছে, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে আদায় করা অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দিতে হবে। তবে আপাতত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে শুধু দুটি বেসরকারি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ক্ষেত্রে।
এই রায়ের পর অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও অতিরিক্ত শুল্ক অবৈধ ঘোষণার আবেদন এবং আগেই দেওয়া অর্থ ফেরত চাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরাও সেই সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
নিট পোশাক খাতের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, অতিরিক্ত শুল্ক পরিশোধের দায়িত্ব মূলত ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের হলেও অনেক বাংলাদেশি রপ্তানিকারক ক্রেতা ধরে রাখতে সেই ব্যয়ের একটি অংশ নিজেরা বহন করেছেন। তিনি জানান, সংগঠনটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে একজন আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে। সদস্যদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেগুলো যাচাই করে সম্ভাব্য পাওনার হিসাব নির্ধারণ করা হবে।
আদালতের রায়ে আরও বলা হয়েছে, মামলার বাইরে থাকা অন্যান্য আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে জুলাই পর্যন্ত এই শুল্ক কার্যকর থাকতে পারে। ফলে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য এখনই শুল্ক বাতিল হচ্ছে না।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ১৭১ কোটি ৯৩ লাখ ডলারের। এসব পণ্যের বিপরীতে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত পাল্টা শুল্ক বাবদ ৬০৬ কোটি ৪২ লাখ ডলারের বেশি অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হয়েছে। এই বাড়তি ব্যয় বহন করেছে আমদানিকারক, আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা।
তবে আদালত এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্য ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেনি। ফলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা পুরো অর্থ ফেরত পাবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, বিষয়টি আইনি দিক থেকে বেশ জটিল। পুরো পরিস্থিতি পরিষ্কার হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তিনি জানান, অতিরিক্ত শুল্কের অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে এবং তারা সংগঠনের সদস্যদের সহায়তা করবে।
সংগঠনটির সাবেক পরিচালক ও একটি জিনস কাপড়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা কে বহন করবে, তা আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে। অনেক সময় এসব সমঝোতার আনুষ্ঠানিক নথিও থাকে না। ফলে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

