পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ হিসেবে শপিং ব্যাগ ব্যবহারে পরিবর্তন আনার কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরেছে আড়ং। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারে নতুন কয়েকটি কর্মসূচির ঘোষণাও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অপ্রয়োজনীয় শপিং ব্যাগের ব্যবহার কমাতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাগের জন্য প্রতীকী মূল্য নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি নিজস্ব ব্যাগ নিয়ে আসা গ্রাহকদের ১৫ টাকা ক্যাশব্যাক দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়, যাতে মানুষ পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যাগ ব্যবহারে উৎসাহিত হন।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৬ লাখ ৭৯ হাজারের বেশি শপিং ব্যাগ ব্যবহার কমেছে। আড়ং-এর দাবি, এই সাশ্রয় প্রায় ৬ হাজার গাছ রক্ষার সমতুল্য পরিবেশগত প্রভাব তৈরি করেছে। এ সময় ব্যাগ বিক্রি থেকে প্রায় ২ কোটি ৮৯ লাখ টাকার বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছে বলেও জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই অর্থের পুরোটা দেশের বিভিন্ন পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।
পরবর্তী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনটি নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে আড়ং। এর মধ্যে রয়েছে দেশজুড়ে ব্র্যাক-এর আল্ট্রা পুওর গ্র্যাজুয়েশন কর্মসূচির ৪০ হাজার অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৮০ হাজার গাছের চারা বিতরণ। এছাড়া রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সেচ সহায়তা ও ৫০ হাজার গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও একটি উদ্যোগের আওতায় মিশন গ্রিন বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় ডেমরা ও রূপগঞ্জ এলাকায় দুটি মিয়াওয়াকি বন তৈরি করা হবে। সেখানে প্রায় ২০ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রাহকদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তামারা হানান আবেদ বলেন, অধিকাংশ গ্রাহক পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং সচেতন আচরণে উৎসাহ দেখিয়েছেন। তিনি জানান, টেকসই জীবনধারা গড়ে তুলতে গ্রাহকদের সমর্থন প্রতিষ্ঠানটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা। তবে একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের হয়রানি, অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমানজনক আচরণের বিরুদ্ধেও অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
আড়ং জানিয়েছে, টেকসই উপকরণ ব্যবহার, সচেতন ভোগব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়া উৎসাহিত করার মাধ্যমে আরও সবুজ ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই তাদের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

