কক্সবাজারের ইনানী সৈকতসংলগ্ন বিলাসবহুল পর্যটন কেন্দ্র সি পার্ল বিচ রিসোর্ট ঘিরে ৬০০ কোটি টাকার বন্ড বিনিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর অর্থ ব্যবহারের এই ঘটনায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে।
অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালে ৩২৫ কোটি টাকার বন্ডে বিনিয়োগ শুরু হয় ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে। দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ শতাংশ সুদে কিস্তি পরিশোধের শর্ত থাকলেও তা যথাযথভাবে পরিশোধ হয়নি। ফলে সময়ের সঙ্গে সুদ ও মূলধন মিলিয়ে পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৯৭ কোটি টাকার কাছাকাছি।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চুক্তির একাধিক শর্ত মানা হয়নি। নির্ধারিত শেয়ার রূপান্তরের প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হয়নি এবং সম্পদের বিপরীতে নিরাপত্তা বা বন্ধকীকরণ ব্যবস্থাও সম্পন্ন করা হয়নি। এতে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে যায় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রিসোর্টটি নিয়মিত ব্যবসা পরিচালনা করলেও বন্ডের কিস্তি পরিশোধে গড়িমসি করা হচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রীয় এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, ওই প্রকল্পের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ইকরামুল হক টিটু, যিনি তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়, তার প্রভাবের কারণেই বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব পড়েছিল।
এদিকে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ-এর একাধিক কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও বকেয়া অর্থ আদায় হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটি এখন তারল্য সংকটে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন বড় অঙ্কের বিনিয়োগে যথাযথ ঝুঁকি মূল্যায়ন না করা এবং চুক্তি বাস্তবায়নে দুর্বলতা থাকলে তা রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে বিনিয়োগ ঝুঁকি আরও বাড়বে।
অন্যদিকে সি পার্ল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন প্রশ্ন উঠছে—রাষ্ট্রীয় অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে আরও কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছতা আনা জরুরি কি না।

